নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর এবার সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী রমজান মাসেই এই ৫০টি আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। আনুপাতিক হার অনুযায়ী এর মধ্যে অন্তত ৩৭টি আসন বিএনপির ভাগে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনের সময়সূচি ও ইসির প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট সম্পন্ন করতে হয়। ইসি পরিকল্পনা করছে পবিত্র রমজানের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করতে, যাতে ঈদের আগেই সংসদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।
আলোচনায় যারা রয়েছেন
৩৭টি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে শতাধিক নারী নেত্রী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। আলোচনায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো:
-
অভিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় নেত্রী: শিরিন সুলতানা, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, নাজমুন নাহার বেবী।
-
সাবেক সংসদ সদস্য: শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু।
-
সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী ব্যক্তিত্ব: কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, কনক চাঁপা এবং হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ।
-
আলোচিত ও তরুণ নেত্রী: নিপুণ রায় চৌধুরী, অপর্ণা রায়, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (যিনি আগেও সংসদ সদস্য ছিলেন), সানজিদা ইসলাম তুলি (মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক) ও ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।
ত্যাগের মূল্যায়ন চায় তৃণমূল
আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা এবং বিভিন্ন চড়াই-উতরাইয়ে দলের পাশে থাকা নেত্রীদের মূল্যায়ন করার দাবি উঠেছে জোরালোভাবে। বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন বলেন, “জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি, দল যোগ্যতার মূল্যায়ন করবে বলে আমার বিশ্বাস।” অন্যদিকে, ঢাকা-১৪ আসনে লড়ে পরাজিত হওয়া সানজিদা ইসলাম তুলি জানিয়েছেন, সরাসরি কাজ করার মাধ্যমে দেশের জন্য অবদান রাখতে চান তিনি।
হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত
বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জানিয়েছে, ত্যাগী ও যোগ্য নেত্রীদের পাশাপাশি যারা সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও অল্পের জন্য হেরে গেছেন বা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।