নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা হ্রাসে করণীয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সরকারের পদক্ষেপ ও মন্ত্রীর বক্তব্য
বৈঠকে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার ইতিমধ্যে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন:
-
সড়ক অবকাঠামোর আমূল উন্নয়ন করা হচ্ছে।
-
মহাসড়কে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা (ITS) চালু করার কাজ চলছে।
-
চালকদের পেশাদার প্রশিক্ষণ জোরদার এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, “নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিসচার মতো সংগঠনগুলো দীর্ঘকাল ধরে যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে তা প্রশংসার যোগ্য।”
নিসচার প্রস্তাবসমূহ
বৈঠকে নিসচা প্রতিনিধিদল সরকারের চলমান উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদারে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন:
-
গতিনিয়ন্ত্রণ: মহাসড়কে যানবাহনের গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
-
অবৈধ যানবাহন: ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান জোরদার করা।
-
শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তকরণ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক পাঠদান বাধ্যতামূলক করা।
-
ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিতকরণ: দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো (Black Spots) দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সামাজিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হবে।
বৈঠকে নিসচার ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।