
—নাদির হোসেন, সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, পাংশা, রাজবাড়ী
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। আর নামাজ এই ব্যবস্থার প্রাণ। নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় কর্তব্য নয়—এটি মানুষের আত্মার প্রশান্তি, নৈতিকতার ভিত্তি এবং সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মূল মাধ্যম। তাই সন্তানের চরিত্র গঠনের প্রথম পাঠই হওয়া উচিত নামাজের শিক্ষা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।”
—(সুরা আনকাবুত: ৪৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ।” —(তিরমিজি)
আরেকটি হাদিসে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন,
“তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে না পড়লে শাসন করো।” —(আবু দাউদ)
অতএব, ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে নামাজের প্রতি অনুরাগী করে তোলার নির্দেশ ইসলাম দিয়েছে। তবে সন্তান এক দিনে নামাজি হয়ে ওঠে না—এটি ধৈর্য, ভালোবাসা ও উদাহরণের একটি দীর্ঘ যাত্রা।
প্রথমত, নিজে নামাজি হওয়া। শিশু অনুকরণপ্রিয়; সে যা দেখে, তাই শেখে। মা-বাবার নিয়মিত নামাজই সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
দ্বিতীয়ত, ঘরে নামাজের পরিবেশ তৈরি করা। আজানের সময় আজান দেওয়া, পরিবারের সবাই মিলে নামাজ পড়া—এসব শিশুর মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ছোটদের জন্য আলাদা জায়নামাজ, টুপি বা ওড়না দিন। নামাজ শেষে একত্রে দোয়া করুন। এতে শিশুর মনে নামাজের প্রতি আনন্দ তৈরি হবে।
তৃতীয়ত, পুরস্কার ও ভালোবাসার ভাষা ব্যবহার করুন। “নামাজ না পড়লে আল্লাহ রাগ করবেন” বলার পরিবর্তে বলুন—“নামাজ পড়লে আল্লাহ খুশি হন, তোমার জন্য জান্নাত প্রস্তুত করেন।”
চতুর্থত, নামাজি বন্ধু ও পরিবেশ তৈরি করুন। নামাজবান্ধব স্কুল ও সমাজে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিন। ইসলামিক গল্প, নবী ও সাহাবাদের নামাজের কাহিনি বলুন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ইতিবাচক প্রেরণা ভয় বা শাস্তির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। তাই সন্তান যেন নামাজকে শাস্তি নয়, বরং ভালোবাসা ও শান্তির অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করে।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন,
“তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং নিজেও এতে স্থির থাকো।”
—(সুরা তোহা: ১৩২)
সুতরাং মা-বাবা যদি ঘরে নামাজের আলো জ্বালান, তবে সেই আলো একদিন সমাজকে আলোকিত করবে নামাজি প্রজন্মের মাধ্যমে।
হে আল্লাহ, আমাদের সন্তানদের নামাজি হিসেবে কবুল করে নিন।