স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
আকাশভাঙা বৃষ্টি আর কর্দমাক্ত পথ—কোনো কিছুই থামাতে পারেনি ঘরমুখো মানুষের অদম্য ইচ্ছাকে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সব বাধা আর প্রতিকূলতা জয় করে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানী ছাড়ছে লাখো মানুষ। ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়, যেখানে ভোগান্তির চেয়ে আপনজনের কাছে পৌঁছানোর আনন্দই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
টার্মিনালগুলোতে মানুষের ঢল
সকাল থেকেই সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে। থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিতে যাত্রীদের কিছুটা পোহাতে হচ্ছে বিড়ম্বনা। কাউকে দেখা গেছে ছাতা হাতে, কেউ মাথায় পলিথিন দিয়ে, আবার কেউবা ভিজে একাকার হয়ে ব্যাগ-পোটলা নিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন।
যাত্রীদের ভাষ্য: ভোগান্তির চেয়ে আনন্দই বড়
সায়েদাবাদে সপরিবারে অপেক্ষারত সানজিদা খাতুন বলেন,
"বৃষ্টি একটু কষ্ট দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকার আনন্দের কাছে এসব কিছুই না। অনেকদিন পর সবাই একসঙ্গে হবো, তাই এই দুর্ভোগ তেমন গায়ে লাগছে না।"
একই টার্মিনালে মাওলানা আব্বাস আলী জানান, ঈদ মানেই পূর্ণতা পায় পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্যে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও মানুষের আবেগ ও ব্যস্ততা থেমে নেই।
গাবতলীর চিত্র ও পরিবহন পরিস্থিতি
গাবতলী টার্মিনালে সিলেটগামী যাত্রী রহিম উদ্দিন জানান, টিকিট পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে, তার ওপর বৃষ্টির বাগড়া। তবুও বছরে একবার আসা এই খুশির উৎসবে শামিল হতে সব কষ্ট মেনে নিচ্ছেন তারা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন:
অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল হওয়ায় এবং দৃশ্যমানতা কমে আসায় যানবাহন কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।
টার্মিনালগুলোতে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শেষ কথা
প্রতিকূল আবহাওয়া আর সড়কের ধীরগতি ভ্রমণকে কিছুটা দীর্ঘায়িত করলেও, দিনশেষে প্রিয়জনের হাসিমুখ দেখার প্রত্যাশাই এখন প্রতিটি যাত্রীর প্রধান পাথেয়।