সুনির্মল সেন:
বর্তমানে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো সিলেটের প্রায় প্রতিটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি অঘোষিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে—ক্লাস পরিবর্তনের সাথে সাথেই নতুন করে ‘ভর্তি ফি’ প্রদান। প্রতি বছর একই স্কুলে একই শিক্ষার্থীকে কেন বারবার ভর্তি হতে হবে, এই প্রশ্নটি এখন প্রতিটি অভিভাবকের। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই খামখেয়ালি বাণিজ্য দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়েছে।
বারো মাসের বেতন বনাম পাঁচ মাসের শিক্ষা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের দিকে তাকালে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা যায়। বছরে ১২ মাসের মধ্যে বিভিন্ন ছুটি মিলিয়ে স্কুল কার্যকরভাবে খোলা থাকে বড়জোর ৫ মাস। অথচ অভিভাবকদের পকেট থেকে পুরো ১২ মাসের বেতনই নিয়ম করে আদায় করা হয়। যেখানে সরকার অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ ব্যয় বহন করে, সেখানে অভিভাবকদের ওপর এই বাড়তি চাপ কতটা যৌক্তিক?
কোচিং বাণিজ্য ও অতিরিক্ত চাঁদার বোঝা
অভিযোগ রয়েছে, অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নিয়মিত পাঠদানের চেয়ে ব্যক্তিগত কোচিং বাণিজ্যে বেশি আগ্রহী। স্কুল বন্ধ রেখে বা ক্লাসে দায়সারাভাবে বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের কোচিং সেন্টারে যেতে বাধ্য করা হয়। এর বাইরেও বিভিন্ন উছিলায় মাঝেমধ্যেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা ধরনের চাঁদা আদায় করা হয়, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।
একটি জরুরি প্রশ্ন
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের সবিনয় প্রশ্ন—একটি বাচ্চা একটি স্কুলে একবার ভর্তি হওয়ার পর, তাকে প্রতি বছর কেন পুনরায় ভর্তি ফি দিতে হবে? এটি কি স্রেফ অর্থ আদায়ের কৌশল নয়?
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন
সিলেটসহ সারা দেশের অভিভাবকদের এই দুর্ভোগ লাঘবে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
-
পুনঃভর্তি ফি (Re-admission fee) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
-
শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি।
-
স্কুলগুলোর আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ সহজতর করা এখন সময়ের দাবি।