
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের পাসকার্ড প্রদানের প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং আবেদনের সময়সীমা ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। নির্বাচন কমিশনের দ্বৈত সিদ্ধান্ত এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে কঠোর নিয়ম আরোপ করায় তৃণমূল ও মফস্বলের সাংবাদিকরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জটিলতার মূলে নিয়োগপত্র ও অনলাইন পদ্ধতি গণমাধ্যমকর্মী সুনির্মল সেন এক বিবৃতিতে জানান, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এবার কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করেছে। অথচ দেশের মফস্বল ও তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত অধিকাংশ সাংবাদিককে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না। এই বাস্তবতায় নিয়োগপত্রের বদলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্রের (আইডি কার্ড) ফটোকপি জমা নিয়ে কার্ড প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া শুরুতে অনলাইনে আবেদনের ঘোষণা এবং পরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফেরার যে ‘দ্বৈত সিদ্ধান্ত’ কমিশন নিয়েছে, তাতে মফস্বল সাংবাদিকদের নথিপত্র গুছিয়ে আবেদন করতে অনেক বিলম্ব হয়েছে। অনেক গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষও কমিশনের জটিল নিয়মাবলি সহজে বুঝতে না পারায় তালিকা পাঠাতে বিঘ্ন ঘটছে।
বিবৃতিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো:
সময়সীমা বৃদ্ধি: জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে পাসকার্ড দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে।
শর্ত শিথিলকরণ: নিয়োগপত্রের বদলে অনুমোদিত গণমাধ্যমের পরিচয়পত্রের ফটোকপি গ্রহণ করতে হবে।
সহযোগিতা নিশ্চিতকরণ: কোনোভাবেই সাংবাদিকদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ না করে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশে কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
তৃণমূলকে অগ্রাধিকার: মফস্বলের সাংবাদিকরা বিনা পারিশ্রমিকে শুধুমাত্র পেশাগত তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন, তাই তাদের কার্ড প্রাপ্তি সহজ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতন্ত্রের পথচলায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের চিত্র রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই বিড়ম্বনা দ্রুত নিরসন করা নির্বাচন কমিশনের নৈতিক দায়িত্ব।