
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান কবে নাগাদ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আবার মাঠে নামবেন, তা নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাকিবকে দেশে ফেরানো প্রসঙ্গে এবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক গোলরক্ষক ও ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হক।
আমিনুল হক জানিয়েছেন, সাকিবের দেশে ফেরা এবং খেলার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “সাকিবের যে সিদ্ধান্ত, সেটা রাষ্ট্র নেবে। কারণ এখানে আইনের বিষয় রয়েছে। তবে একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি সব সময় সাকিবের পক্ষে থেকেছি। আমিও চাই সাকিবের মতো বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করুক।”
তিনি আরও যোগ করেন, বিগত সময়ে সাকিবের যে ভুলগুলো হয়েছে, তা রাষ্ট্র আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার-বিশ্লেষণ করবে। তবে ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে সাকিবের প্রতি নমনীয় আচরণ করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহ যদি আমাদের কবুল করেন, আমরা অবশ্যই সাকিবের বিষয়ে নমনীয় আচরণ করব ইনশা আল্লাহ।”
সাকিবকে ফেরানোর বিষয়ে বিসিবির সাম্প্রতিক তৎপরতাকে ‘স্টান্টবাজি’ হিসেবে দেখছেন আমিনুল হক। তিনি বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন:
বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড একটি সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়নি।
দুই-একজন ছাড়া অধিকাংশেরই বোর্ড পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই।
আইনি বিষয় অমান্য করে সাকিবকে ফিরিয়ে আনার কোনো এখতিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের নেই।
২০২৪ সালের অক্টোবরে কানপুর টেস্টের পর থেকে সাকিব আর বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামেননি। তবে সম্প্রতি বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর ও আমজাদ হোসেনের মন্তব্যের পর সাকিবের ফেরার আলোচনা জোরালো হয়। আসিফ আকবর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা বা ৩ আগস্টের ঘটনায় জড়িত অন্য ক্রিকেটাররা যদি দেশে থাকতে পারেন, তবে সাকিবও থাকতে পারেন। এমনকি মাগুরায় সাকিবের পৈতৃক বাড়ি নতুন করে সাজানোর ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাকিবের ফেরার সম্ভাবনাকে উসকে দিচ্ছে।
সাকিব আল হাসান কি শেষ পর্যন্ত সব আইনি জটিলতা কাটিয়ে আবারও ২২ গজে ফিরতে পারবেন? ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর এখন সেই আইনি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে।