২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সামরিক শিল্পাঞ্চল ও ফ্রি ট্রেড জোন পাচ্ছে বাংলাদেশ: বেজার সভায় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

admin
প্রকাশিত ২৬ জানুয়ারি, সোমবার, ২০২৬ ২১:২৮:৪৫
সামরিক শিল্পাঞ্চল ও ফ্রি ট্রেড জোন পাচ্ছে বাংলাদেশ: বেজার সভায় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সামরিক সরঞ্জামের বাজারে প্রবেশ করতে দেশে প্রথমবারের মতো ‘প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল’ (Defence Industrial Zone) গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৮৫০ একর জমিতে এই বিশেষ জোন স্থাপন করা হবে।

Manual3 Ad Code

আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সভায় আনোয়ারায় দেশের প্রথম ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ (FTZ) স্থাপনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মিরসরাইয়ে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’

সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত জমিটি এখন থেকে প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

উদ্যোগটির মূল বৈশিষ্ট্য:

  • যৌথ বিনিয়োগ: এটি কেবল রাষ্ট্রীয় কারখানা নয়, বরং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হবে।

    Manual1 Ad Code

  • বেসরকারি খাতের সুযোগ: ভবিষ্যতে এখানে দেশের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের পথও খোলা রাখা হবে।

  • প্রাথমিক লক্ষ্য: উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদ ও মৌলিক সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

    Manual7 Ad Code

আনোয়ারায় ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ (FTZ)

বাণিজ্যিক গতিশীলতা বাড়াতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৬৫০ একর জমিতে ফ্রি ট্রেড জোন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দুবাইয়ের ‘জেবেল আলি ফ্রি জোনে’র মডেলে এটি পরিচালিত হবে। আশিক চৌধুরী জানান, এটি কার্যত একটি ‘ওভারসিজ টেরিটরি’ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে কাস্টমস জটিলতা ছাড়াই পণ্য সংরক্ষণ ও পুনঃরপ্তানি করা যাবে। এতে বাংলাদেশের ‘টাইম টু মার্কেট’ বা পণ্য পৌঁছানোর সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

Manual7 Ad Code


বিনিয়োগ টানতে নতুন প্রণোদনা ও বড় সিদ্ধান্ত

একই দিনে বিডা (BIDA) ও মিডা (MIDA)-এর সভায় বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বাড়াতে বেশ কিছু বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

১. রেমিট্যান্সের মতো প্রণোদনা: প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রবাসীদের জন্য ১.২৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২. জাপানের সাথে এফটিএ: জাপানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৩. প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণ: বিনিয়োগ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৪. কুষ্টিয়ায় ইকোনমিক জোন: কুষ্টিয়া সুগারমিলের জায়গায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নিজস্ব সক্ষমতা

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক যুদ্ধগুলোতে দেখা গেছে গোলাবারুদ ও মৌলিক সরঞ্জামের সংকটই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই কৌশলগত প্রকল্পগুলো চলমান থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


পরবর্তী পদক্ষেপ: এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধনের জন্য খুব শীঘ্রই প্রস্তাবনাটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।