১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ছক: রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৬

admin
প্রকাশিত ১৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, ২০২৬ ১৯:৩১:৫২
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ছক: রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৬

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সম্প্রতি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এটি ১৫-১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ, যাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।

Manual1 Ad Code

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরের ষোলোশহরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এসব তথ্য জানান।

Manual5 Ad Code

ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কী?

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ জানান, এই চক্রটি হিন্দু ও বৌদ্ধদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়িতেও আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তিনি বলেন, “তারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার চালিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত করেছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়া।”

গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দ

গত ২ জানুয়ারি রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জনৈক মনিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ কবির হোসেন, কার্তিক দে, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ লোকমান ও মোহাম্মদ পারভেজ।

অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে উসকানিমূলক ব্যানার, কেরোসিনের কনটেইনার, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।

যেভাবে ঘটানো হতো অগ্নিকাণ্ড

তদন্তে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে বাড়ির বাইরে থেকে দরজা আটকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হতো। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে দুষ্কৃতকারীরা ঘটনাস্থলে উসকানিমূলক ব্যানারও ঝুলিয়ে রাখত। সেই ব্যানারে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম ও অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বর লিখে রাখা হয়েছিল যাতে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া যায়।

Manual2 Ad Code

পরিকল্পনাকারী ও অর্থায়ন

পুলিশ জানায়, এই ঘটনার পেছনে রাঙামাটি জেলার সাবেক এক পৌর কমিশনার (যিনি একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সমর্থক) এবং রাউজানের কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মূল পরিকল্পনাকারী পেশায় একজন নার্সারি ব্যবসায়ী। রাঙামাটিতে বসবাসকারী জনৈক ব্যক্তি এই পুরো পরিকল্পনা সমন্বয় করেছিলেন এবং সাবেক ওই কমিশনার অর্থায়ন করেছিলেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ২৩ ডিসেম্বর রাউজান পৌরসভার সুলতানপুরে কাতারপ্রবাসী সুখ শীলের বাড়িতে এবং ২০ ডিসেম্বর ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশের বাড়িতে একই কায়দায় আগুন দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

Manual4 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।