নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জে ফুয়েল কার্ড চালু হওয়ার পর থেকে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সংগ্রহের দীর্ঘ লাইনের চাপ ও চালকদের ভোগান্তি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পাম্পগুলোর বর্তমান চিত্র
শহরের মেসার্স পার্ক ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স মিরপুর ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের তুলনায় মোটরসাইকেলের ভিড় তুলনামূলক কম। চালকেরা এখন ৫০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই তেল নিতে পারছেন, যা আগে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতো। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসাররা পাম্পগুলোতে তেল বিতরণ কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন।
চালকদের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ চালকেরা। সোহাগ নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন:
“ফুয়েল কার্ডের কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা প্রকৃত মালিকরা তেল পাচ্ছেন। এতে করে বিশৃঙ্খলা কমেছে এবং আমরা দ্রুত তেল নিতে পারছি।”
তবে সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। ব্যাংকার আব্দুল মান্নান জানান, কার্ডে সুবিধা হলেও জরুরি সেবায় যুক্তদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা থাকলে অফিসের কাজে বিঘ্ন ঘটত না। অন্যদিকে আলমগীর হোসেন নামে এক চালক জানান, সংকট পুরোপুরি না কাটলেও কার্ডের কারণে শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে।
সরবরাহ ও তদারকি
মেসার্স পার্ক ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার তাদের পাম্পে প্রায় ৯ হাজার লিটার জ্বালানি (ডিজেল ও অকটেন সমপরিমাণ) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কেবল বৈধ কাগজপত্র ও ফুয়েল কার্ডধারীদের মধ্যেই এই তেল বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২০ জেলার ২৫৩টি পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে:
প্রশাসনের বক্তব্য
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল চালককে ফুয়েল কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে তেল বিতরণে একটি শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট সমস্যাগুলোও সমাধান করা হবে।”