নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় যমুনা নদীর দুর্গম চরে গোপনে ঘোড়া জবাই করে মাংস ঢাকায় পাচারের চেষ্টার সময় একটি চক্রকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসময় জব্দ করা প্রায় ৪০০ কেজি মাংস উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত এ ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।
অভিযান ও আটক
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মেঘাই ঘাট এলাকায় যমুনা নদীর তীরে এই অভিযান পরিচালনা করেন কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাইডাঙ্গা গ্রামের কাউসার আলী পলাশ (৩৫) ও শরিফুল ইসলাম (৪৫)।
যেভাবে মাংস পাচারের পরিকল্পনা ছিল
ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আটককৃত চক্রটি যমুনার চরে অত্যন্ত গোপনে আটটি ঘোড়া জবাই করে। এতে প্রায় ১১ বস্তা মাংস হয়, যার আনুমানিক ওজন ৪০০ কেজি। এই মাংসগুলো কৌশলে ঢাকায় নিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল তাদের। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে মেঘাই ঘাট এলাকা থেকে তাদের আটক করে।
আইনগত ব্যবস্থা ও ধ্বংসকরণ
পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ অনুযায়ী অভিযুক্তদের দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত ৪০০ কেজি ঘোড়ার মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল আহাদ, কাজীপুর থানার ওসি (তদন্ত) আবু সাঈদ এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।