সিলেটের আদালতে বিশ্বনাথ থানার এক মিথ্যা মামলায় ভুক্তভোগীর ক্ষোভ প্রকাশ
সিলেটের বিশ্বনাথ থানার মামলা রেকর্ডকারী কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক অফিসার ইনচার্জ, বিশ্বনাথ থানা মাননীয় আদালতে কারণ দর্শানোর জন্য নির্ধারিত তারিখে অনুপস্থিত থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভঃ বিশ্বনাথ থানার সদ্য সাবেক অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী তাহার রেকর্ডকৃত মামলার এজাহারে অসঙ্গতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে অদ্য ৩০/০৩/২০২৬ ইংরেজি তারিখ ধার্য্য ছিলো। সিলেটের বিশ্বনাথ থানার জি.আর মামলা নং ১৬১/২০২৫–এর রেকর্ডকারী কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী আদালতে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্ধারিত দিনে হাজির না হওয়ায় অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার । এ ঘটনায় এনামুল হক চৌধুরী কে আগামী পনেরো কার্যদিবসের মধ্যে সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে এজাহার অসঙ্গতির সম্পর্কে ব্যাখ্যা জন্য মাননীয় আদালত আদেশ প্রদান করেন ।
মামলার এজাহার দৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে , ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া উক্ত মামলার এজাহারে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে যাহা আসামীপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী শামীম আহমেদ এডভোকেট আদালতের নজরে আনেন। তৎপর মাননীয় বিজ্ঞ আদালত উক্ত বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য মামলার রেকর্ডকারী অফিসার এনামুল হক চৌধুরী সাবেক অফিসার ইনচার্জ, বিশ্বনাথ কে আজ (৩০ মার্চ ২০২৬) তারিখে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তিনি নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত হননি।
মামলার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারে ভিকটিমের বয়স ১৫ বছর উল্লেখ করা হলেও তার সমর্থনে কোনো জন্মনিবন্ধন সনদ বা অন্যান্য প্রামাণিক দলিল নথিতে সংযুক্ত করা হয়নি। ভিকটিমকে কীভাবে শনাক্ত করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, এজাহারে কোনো সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ভিকটিমের মা-বাবার পরিচয় নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা ও সন্দেহ। পাশাপাশি, ভিকটিমের কোনো স্থায়ী ঠিকানাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি।
এজাহারে ভিকটিমকে সিলেটের বাস টার্মিনাল এলাকার বিভিন্ন হোটেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, তিনি ঠিক কোন হোটেলে কর্মরত—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখিত এসব অসঙ্গতি ও অস্পষ্টতার প্রেক্ষিতে মাননীয় আদালত মামলা রেকর্ডকারী কর্মকর্তার নিকট বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। এছাড়াও ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্টে ভিকটিমের বক্তব্যের সহিত এজাহারের বক্তব্যের ভিন্নতা রয়েছে। এসব বিষয়ে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান না করায়, তাকে পুনরায় আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মাননীয় আদালতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার আদেশ প্রদান করা হয়েছে ।