মাছ ও মাংসের মাত্রাতিরিক্ত দামের ফলে অসহায় হয়ে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন। বাজারগুলোতে সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে রেখেছে মাছ ও মাংসের এই চড়া দর।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিলেট মহানগরীর বেশ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে দাম বাড়ছে প্রতিটি পণ্যেই।
সপ্তাহের ব্যবধানে এদিন সিলেটের বন্দরবাজার, লালদিঘীর পার হকার্স মার্কেট, লালবাজার, রিকাবীবাজার, আম্বরখানাসহ নগরীর বেশ কয়েকটি বাজারে মুরগির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সোনালি মুরগি এখন ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। পটল, করলাসহ বেশিরভাগ গ্রীষ্মকালীন সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
নগরীর এই বাজারগুলোতে দেখা গেছে, মাঝারি মানের রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা এবং বড় রুই ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরাসহ প্রায় সব মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছের পাশাপাশি গরু ও খাসির মাংসের দামও আগের মতোই নাগালের বাইরে রয়েছে। গরু ৮০০ এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, বাজারের অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে চাল, চিনি, ডিম ও পেঁয়াজের দামে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আগে যে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া ছিল সহনীয়, এখন সেই ভাড়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছ। এই বাড়তি পরিবহন খরচ পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যোগ হওয়ায় খুচরা বাজারে দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। চালের বাজারে মাঝারি মানের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে।
এছাড়া, ডিমের বাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে অস্থিরতা চলছে। এক ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১১০ টাকার আশেপাশে ছিল। এছাড়াও চিনি ও পেঁয়াজের দামও কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খোলা চিনির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকায়। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ খোলা তেল কিনছেন।
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, সবজি ও মুরগির দাম কমায় কিছুটা আশা দেখলেও মাছ ও অন্যান্য পণ্যের বাড়তি দামের কারণে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় এই মূল্যস্ফীতি বড় চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই পরোক্ষ প্রভাব যদি না থাকত তবে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকত।
তারা মনে করছেন, দ্রত বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।