
সিলেটের সিলাম চকবাজারে মাজারের নিয়ন্ত্রনে নিতে শাহ ও শেখ বংশের লড়াইয়ে রাসেল নামের যুবক খুন, পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম চকবাজারে পূর্ববিরোধের জেরে রাসেল (২১) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে চকবাজারের ডাউনের নিচে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল সিলাম শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। খুনের ঘটনায় জড়িতদের ধরছে না পুলিশ। দুপক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে আসলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শেখপাড়া গ্রামের কয়েকজন তরুণের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার বিকেলে কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে চকবাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রাসেলকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাজারে ও আশপাশে থাকা শেখপাড়া গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাসেলকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে প্রথমে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে ওসমানী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে রাসেলের মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এদিকে রাসেল নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শেখপাড়া গ্রামের শাহ বংশ ও শেখ বংশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও হামলা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানী (রহ.) মাজার মসজিদ ওয়াকফ এস্টেটকে কেন্দ্র করে দুই বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে এ বিষয়ে আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শাহ বংশের খালেদ শাহ বলেন, আহত রাসেলকে শেখ গোষ্ঠীর লোকজন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
অন্যদিকে শেখ বংশের সাজ্জাদুর রহমান সাব্বির বলেন, আহত রাসেলকে তার বংশের লোকজনই প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।