নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ১০ মার্চ, ২০২৬
সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের আস্তানায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চক্রের কবলে থাকা এক প্রবাসীসহ দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে দেশীয় অস্ত্র ও মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া নগদ অর্থ।
ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৮ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকা থেকে সুহেল সরকার (২২) নামে এক যুবককে ১৪/১৫ জন দুষ্কৃতকারী জোরপূর্বক অপহরণ করে। তাকে তাঁতিপাড়ার ‘নাজমা নিবাস’ (বাসা নং-৫৬) এর দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়
অপহরণকারীরা সুহেলকে ধারালো চাকু ও কেচি দিয়ে ভয় দেখিয়ে লোহার রড ও স্টিক দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। নির্মমতার একপর্যায়ে চক্রটি ভিকটিমকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে এবং পুলিশকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়।
পুলিশি অভিযান ও সাফল্য
ভিকটিম সুহেল সরকার বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের নির্দেশনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নিঃ) শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ‘নাজমা নিবাসে’ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে ভিকটিমের শনাক্তমতে ১০ জন অপহরণকারীকে আটক করা হয়। এ সময় ওই বাসা থেকে জাহিদ আহমদ (৪২) নামে অপর এক অপহৃত প্রবাসীকেও উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. তানজিম মাহবুব নিশান (২১), ২. আহসান হাবিব মুন্না (১৯), ৩. জুবাইন আহমদ (১৯), ৪. সুফিয়ান আহমদ (১৯), ৫. মোঃ জাকির হোসেন (১৯), ৬. মোঃ মারজান (১৯), ৭. মোসাদ্দেক আলী (১৮), ৮. ফারদিন আহমদ (১৮), ৯. জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) এবং ১০. মিজান আহমদ (১৮)।
উদ্ধারকৃত আলামত
অভিযানকালে অপহরণকারীদের হেফাজত থেকে:
কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নগরীতে এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আমি কি এই নিউজের জন্য একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম (Headline) বা ফেসবুক পোস্টের জন্য ছোট কোনো ক্যাপশন লিখে দেব?