
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীতে অনুষ্ঠিত তাঁর শেষ গণমিছিলটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যা সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ের সব রেকর্ড ভেঙে ‘স্মরণকালের বৃহৎ’ মিছিলে রূপ নেয়।
সোমবার দুপুর থেকেই সিলেট নগরীর পাড়া-মহল্লা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৩টায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে মূল মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কোর্টপয়েন্ট ও বন্দরবাজারসহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই মিছিলে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা নগরবাসী হাত নেড়ে ও করতালি দিয়ে প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান।
মিছিল শেষে উপশহর পয়েন্টে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আবেগপূর্ণ বক্তব্য রাখেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন:
“আজকের এই মিছিল শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি সিলেটবাসীর অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের চূড়ান্ত বার্তা। আপনাদের ভালোবাসা আমাকে সাহসী করে। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমতা চাইতে আসিনি, দায়িত্ব নিতে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মানুষ বঞ্চিত। উন্নয়নের নামে লোকদেখানো কাজ হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নির্বাচনের দিন নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার দিন। ধানের শীষ মানুষের আশা ও সংগ্রামের প্রতীক।”
মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
মিফতাহ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সিলেট মহানগর বিএনপি।
এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, মহানগর বিএনপি।
মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, জমিয়ত।
এছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী সুসজ্জিত ট্রাক ও পিকআপ নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি উপশহর পয়েন্টে পৌঁছাতে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে, যার ফলে পুরো নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি যানজটেরও সৃষ্টি হয়।