
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ৮ এপ্রিল, ২০২৬
সাপ্তাহিক 'হলি সিলেট' পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও এটিএন বাংলা ইউকে’র সিলেট প্রতিনিধি সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম এবং তার ভাই জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগকে 'মিথ্যা ও ভিত্তিহীন' দাবি করে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম (ডকেট নং- ২০৪২)। অভিযোগে তিনি নিজেকে এবং তার পরিবারকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের তুরুগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন (৫৩) সম্প্রতি গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তবে জহুরুল ইসলামের দাবি, এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার সাংবাদিকতার প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে।
সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জাকির হোসেন এলাকায় একজন চিহ্নিত ভূমিখেকো এবং পরিবেশ ধ্বংসকারী হিসেবে পরিচিত।
সরকারি খাস জমি দখল: গত ২০২৪ সালে বাঘা বটতলা (ডাবিল) সরকারি খাস জায়গার খেলার মাঠ দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ: গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে লালনগর মাদরাসার পেছনের কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেয়।
জাকির হোসেনের এই জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের সংবাদ সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম তার সম্পাদিত 'সাপ্তাহিক হলি সিলেট' পত্রিকার লাইভ পেজে প্রচার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির হোসেন সাংবাদিকের ওপর প্রতিশোধ নিতে এবং তাকে চাপে রাখতে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠান।
জহুরুল ইসলাম তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, জাকির হোসেন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব (আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়) খাটিয়ে জননিরাপত্তা ও পরিবেশের ক্ষতি করছেন। সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি এখন মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় ও সামাজিক অমর্যাদার সম্মুখীন হচ্ছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানান যেন: ১. জাকির হোসেনের করা ভিত্তিহীন অভিযোগটি অবিলম্বে তদন্তপূর্বক খারিজ করা হয়। ২. পরিবেশ বিনষ্টকারী ও মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।