৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেট স্টেডিয়াম মার্কেটে ভাড়ার হরিলুট: ভাড়া ৫০ হাজার, সরকার পায় মাত্র ১২’শ!

admin
প্রকাশিত ০২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ২০:৫৫:৩১
সিলেট স্টেডিয়াম মার্কেটে ভাড়ার হরিলুট: ভাড়া ৫০ হাজার, সরকার পায় মাত্র ১২’শ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ১লা এপ্রিল

সিলেট জেলা স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকান ভাড়ায় ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র দেখে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার (১লা এপ্রিল) দুপুরে স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় আকস্মিক এক পরিদর্শন ও অভিযানকালে দুর্নীতির এই পাহাড়সম বৈষম্য ধরা পড়ে।

অভিযানের নেপথ্যে

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, সিলেট স্টেডিয়াম মার্কেটের সরকারি দোকানগুলো এক শ্রেণির প্রভাবশালী চক্র নামমাত্র মূল্যে বরাদ্দ নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে সাব-লিজ দিয়ে আসছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আজ অভিযানে নামেন প্রতিমন্ত্রী।

হতবাক প্রতিমন্ত্রী

অভিযান চলাকালীন প্রতিমন্ত্রী জনৈক এক দোকানদারের সঙ্গে কথা বললে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই দোকানদার জানান, দোকানটি ব্যবহারের বিনিময়ে তিনি প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাড়া প্রদান করেন। অথচ সরকারি নথিপত্র এবং স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের রেজিস্টার পরীক্ষা করে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট দোকানটির মাসিক ভাড়া মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা

অর্থাৎ, প্রতিটি দোকান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা সরকারের কোষাগারে না গিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে। এই তথ্য শুনে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে থাকেন এবং চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন।


ভাড়ার বৈষম্য এক নজরে:

খাত টাকার পরিমাণ
দোকানি ভাড়া দেন ৫০,০০০ টাকা
সরকার পায় ১,২০০ টাকা
মাঝপথে গায়েব ৪৮,৮০০ টাকা

প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন:

“এটি স্রেফ অনিয়ম নয়, এটি ডাকাতি। সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে একটি চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে আর সরকার তার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে—তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা এই সাব-লিজ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, তারা বাধ্য হয়ে চড়া ভাড়ায় দোকান চালাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দপ্রাপ্ত মূল মালিকরা কয়েক হাত বদল করে এই ভাড়া আদায় করেন। তারা দাবি জানান, সরাসরি সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের চুক্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়।

এই ঘটনার পর জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও মার্কেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। শীঘ্রই এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।