সুনির্মল সেন: সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী মামুনুর রশীদ মামুন কিংবা চাকসু মামুন প্রথম যাত্রায় পাশ করলেন। অন্যসব স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেল হয়ে গেছেন। টিকতে পারেন নি কেউ। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে কেবল মামুনই টিকতে পেরেছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র বাছাই শেসে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম।
সিলেটের ৬টি আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মোট ৭জন। এদের মধ্যে কেবলমাত্র একজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ হয়েছে এবং তিনি হচ্ছন চাকসু মামুন। সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির প্রাক্তন প্রথম সহ- সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন ওরফে চাকসু মামুন এবার সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই আসনে বিএনপি প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। তবে মামুন দলের এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহ করেছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও বাতিল হয়নি চাকসু মামুনের।
সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই বা কেউ মনোনয়নপত্র দাখিলও করেননি। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে দু’জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাদের একজন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব ও মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ। অর্ণবের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বাক্ষরে মিল না থাকায় আর শহীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কাগজপত্রে গড়মিল থাকায়। সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন দু’জন। তাদের একজন হলেন ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী ও মনুল বাকর। তাদের দুজনেরই মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে ১শতাংশ ভোটারের তথ্যে গড়মিল থাকায়। সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন কেবল চাকসু মামুন। আর সিলেট-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন কেবলমাত্র জমিয়তের নেতা ফখরুল ইসলাম। তবে ১পারসেন্ট ভোটের খাড়ায় পড়ে আপাতত তার মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। তবে আপিল করলে কেউ টিকতে পারবেন কি না সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। কারণ, ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিলের সুযোগ আছে।