১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুনামগঞ্জে গুজাউনি বাঁধ ভেঙে দেখার হাওরে পানি: কয়েক হাজার হেক্টর ফসলহানির আশঙ্কা

admin
প্রকাশিত ১১ এপ্রিল, শনিবার, ২০২৬ ১৭:৩৪:৩৩
সুনামগঞ্জে গুজাউনি বাঁধ ভেঙে দেখার হাওরে পানি: কয়েক হাজার হেক্টর ফসলহানির আশঙ্কা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১১ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জে গুজাউনি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এর ফলে দেখার হাওরের কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক।

প্রাণপণ লড়াই কৃষকদের

আজ শনিবার সকাল থেকেই শত শত কৃষক বাঁধ এলাকায় জড়ো হয়ে বাঁশ ও বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। সদর উপজেলার লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, “এই ফসলের ওপরই আমাদের জীবন-জীবিকা। পানি যেভাবে ঢুকছে, তাতে সবার ফসল ডুবে যাবে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার উথাইড়া বাঁধটি আজই না কাটলে আমাদের ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি ও হাওরের বিস্তৃতি

দেখার হাওরটি সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই হাওরে প্রায় ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। বাঁধ ভাঙার ফলে এই চার উপজেলার কৃষকরাই সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য

লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হাফিজ উদ্দিন জানান, পাহাড়ি ঢল নয় বরং বৃষ্টির পানি জমাটবদ্ধ হয়ে পানিনিষ্কাশনের পথ না থাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এখন কোনোমতে বাঁধ ঠেকানো গেলেও রাতে পুনরায় বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম জানান, তারা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছেন এবং মেরামতের কাজ তদারকি করছেন। তবে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহজাহান দাবি করেছেন, বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত নয় এবং মাছ ধরার কারণে সৃষ্ট ছোট গর্ত থেকেই এই ভাঙনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

কৃষকদের দাবি

ভাঙন এলাকার অন্তত ৫০০ কৃষকের ফসল বাঁচাতে অবিলম্বে ‘উথারিয়া’ বা ‘উথাইড়া’ বাঁধটি কেটে দিয়ে জমে থাকা পানি বের করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় বছরের একমাত্র সম্বল বোরো ধান হারিয়ে মরণ ছাড়া আর পথ থাকবে না বলে আর্তনাদ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।