
ইসলাম ডেস্ক | ঢাকা প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
পবিত্র কোরআনের ৫৫তম সুরা 'আর-রহমান' মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৭৮টি আয়াত বিশিষ্ট এই সুরাটি মূলত আল্লাহর অসীম করুণা, সৃষ্টিজগতের ভারসাম্য এবং পরকালীন পুরস্কারের এক অপূর্ব বর্ণনা। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরাটিকে এর অনন্য ভাষাশৈলী ও বিষয়ের কারণে ‘কোরআনের কনে’ বা ‘আরউসুল কোরআন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত লাভের পর মক্কার কুরাইশরা আল্লাহর ‘রহমান’ (পরম করুণাময়) নামটির ব্যাপারে বিদ্রূপ করত। তারা আল্লাহর এই গুণবাচক নামের তাৎপর্য বুঝতে অসম্মতি জানালে, তাদের সেই কৌতূহল ও অস্বীকারের জবাব হিসেবে আল্লাহ তাআলা এই সুরা নাজিল করেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের সৃষ্টির কুদরত ও ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান।
সুরা আর-রহমানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর একটি বিশেষ আয়াতের বারবার পুনরাবৃত্তি— ‘ফাবিআইয়ি আলাই রাব্বিকুমা তুকাজজিবান’ (অতএব, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?)। পুরো সুরায় এই আয়াতটি মোট ৩১ বার এসেছে, যা মানুষ ও জিন জাতিকে আল্লাহর দেওয়া অগণিত নেয়ামত সম্পর্কে সচেতন করে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাগিদ দেয়।
সুরাটিতে মহান আল্লাহ তায়ালা পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন:
কোরআন ও সৃষ্টিতত্ত্ব: প্রথমেই কোরআন শিক্ষা এবং মানুষের সৃষ্টি ও তাকে কথা বলার শক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মহাজাগতিক শৃঙ্খলা: সূর্য-চন্দ্রের সুনির্দিষ্ট আবর্তন এবং আকাশ ও পৃথিবীর ভারসাম্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতির নেয়ামত: সমুদ্রের গভীরতা, দুই সমুদ্রের মিলনস্থল, প্রবাল, মুক্তা এবং ফল-ফসলের নিপুণ কারুকার্য বর্ণিত হয়েছে।
জান্নাত ও জাহান্নাম: জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য এবং জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ করে মানুষকে সৎপথে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আল্লাহর অবিনশ্বরতা: মহাবিশ্বের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও কেবল আল্লাহর সত্তাই চিরস্থায়ী—এই শাশ্বত সত্যটি সুরাটিতে জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে।
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, “প্রতিটি জিনিসের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে; আর কোরআনের সৌন্দর্য হলো সুরা আর-রহমান।” (সুনানে বায়হাকি)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুরা নিয়মিত পাঠ করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতাবোধ তৈরি হয়। এটি কেবল পরকালীন মুক্তির পাথেয় নয়, বরং ইহকালে মানসিক প্রশান্তি লাভের এক মহৌষধ।
এই সুরা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আমাদের চারপাশের প্রতিটি ছোট-বড় নেয়ামত মহান আল্লাহর দান। তাই ওজনে কম না দেওয়া, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং সর্বদা আল্লাহর অনুগত থাকাই একজন প্রকৃত মুমিনের দায়িত্ব।