
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের সাবেক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ভাগনি হামিদা সোলেইমানি আফশার এবং তার মেয়েকে (সোলেইমানির নাতনি) গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) এজেন্টরা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের আইনগত স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ‘গ্রিন কার্ড’ বাতিল করার পরপরই শনিবার (৪ এপ্রিল) এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামিদা সোলেইমানি আফশার এবং তার মেয়ে বর্তমানে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের গ্রিন কার্ড বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর দ্রুততম সময়ে এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া হামিদা আফশারের স্বামীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপরও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের তথ্যমতে, হামিদা সোলেইমানি আফশার দীর্ঘদিন ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান সরকারের কট্টর সমর্থক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো:
ইরান সরকারের পক্ষে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার ঘটনায় আনন্দ প্রকাশ করে পোস্ট দেওয়া।
আমেরিকাকে ‘বড় শয়তান’ হিসেবে অভিহিত করা।
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত আইআরজিসি-র প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ব্যক্ত করা।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, শুধু সোলেইমানির পরিবার নয়, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব আলী লারি জানির মেয়ে ফাতেমেহ আরদেশির-লারিজানি এবং তার স্বামীর আইনি মর্যাদাও বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রে নেই এবং ভবিষ্যতে তাদের প্রবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
জেনারেল কাসেম সোলেইমানি ছিলেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান। ১৯৯৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারে প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করেন। ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। তাকে ইরানের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো।
বিশ্লেষণ: মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরে বসবাসরত ইরানি নাগরিক যারা প্রকাশ্য ইরান পন্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।