
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া | ১১ এপ্রিল ২০২৬
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির মা বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে একমাত্র আসামি করে মিরপুর থানায় এই মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ হেফাজতে থাকা দপ্তরিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৩টার দিকে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও শিশুটি নিখোঁজ থাকে। পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করতে চাইলে দপ্তরি তাদের কোনো সহায়তা না করে উল্টো দুর্ব্যবহার করেন।
পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় শ্রেণিকক্ষগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের নিচতলার তালা খুলে ওপরে গেলে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। অন্য একটি তলায় তার স্যান্ডেল পাওয়া যায়। শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের চিকিৎসা কর্মকর্তা সুস্মিতা বিশ্বাস জানান, মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে প্রচণ্ড ট্রমার মধ্যে রয়েছে এবং কথা বলছে না।”
ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা মামলায় দপ্তরিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নৈশপ্রহরীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
ভয়াবহ এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।