
মতামত ডেস্ক | ২৯ মার্চ ২০২৬
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তজনা নিরসনে কেবল সাময়িক সমঝোতা যথেষ্ট নয়। বিশিষ্ট কলামিস্ট আবু তাহের খানের মতে, পৃথিবীতে প্রকৃত স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে নিজ দেশের বাইরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল দেশের সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের জন্য পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, সেটিকে ‘চতুর কৌশল’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাস পর্যালোচনা করে লেখক মন্তব্য করেন যে, যাদের নিজেদের ইতিহাসে সমঝোতার চেয়ে আত্মসমর্পণ ও যুদ্ধ বাধানোর রেকর্ড বেশি, তারা অন্য দেশের দ্বন্দ্বে কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হওয়া কঠিন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাকিস্তানের আর্থিক ও নীতিগত নির্ভরশীলতা এই দূতিয়ালিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়াসহ ৫ দফা শর্ত দিয়েছে। লেখক মনে করেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই বিশ্বব্যাপী অশান্তি ও উত্তেজনার মূল কারণ। ইতিহাস সাক্ষী— কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক কিংবা বর্তমানের ইরান সংকট, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সম্পদ লুণ্ঠন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এই ঘাঁটিগুলো।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ন্যাটো বা যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও মার্কিন ঘাঁটি পরম যত্নে পুষে এক ধরনের নব্য ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার শিকার হচ্ছে। এতে করে ওই দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব কতটা অটুট আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আশার বিষয় হলো, ট্রাম্পের ইরান আক্রমণকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্য ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে লেখক সতর্ক করেছেন যে, সেন্ট মার্টিন কিংবা বঙ্গোপসাগরে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে প্রধান দলগুলোর প্রচ্ছন্ন সমর্থন দেশের স্বার্থের বিপরীতে যাওয়ার একটি ইঙ্গিত বলে তিনি মনে করেন।
স্থায়ী শান্তির স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জনমত গড়ে তোলা জরুরি। ক্ষমতার লোভে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখার পক্ষে অবস্থান না নিয়ে, শান্তি ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য সকল দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এই নিবন্ধে।