
আজকের ব্যস্ত জীবনে সকালের সময়কে উপেক্ষা করা হয়ে থাকে। তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে ওঠা, মুখে খাওয়া গুঁজে বের হওয়া এবং সারা দিন ব্যস্ততার চক্রে ঘোরার মধ্যেই দিন শেষ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি নেটিজেন ও ভ্লগারদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘স্লো মর্নিং’—অর্থাৎ ধীরে, সচেতনভাবে সকাল শুরু করার রুটিন।
স্লো মর্নিং মানে হলো তাড়াহুড়ো বা চাপ ছাড়া, স্বাচ্ছন্দ্যময় গতিতে দিন শুরু করা। ঘুম ভেঙে সরাসরি কাজ বা দায়িত্বে ঝাঁপ দেওয়ার বদলে, এটি মন ও শরীরকে পুষ্ট করে এমন কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়। যেমন—জার্নাল লেখা, ধ্যান, ধীরেসুস্থে নাশতা খাওয়া বা ধীর ও শান্তভাবে সকালের কাজ সম্পন্ন করা।
গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে মননশীল কার্যকলাপে অংশ নিলে সারা দিনের মানসিক স্থিতিশীলতা এবং জ্ঞানীয় দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। ধীর গতিতে সকাল শুরু করলে শরীর ও মস্তিষ্ক আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। মানসিক চাপ কমে, অস্থিরতা এবং ক্লান্তি হ্রাস পায়।
আগে ঘুম থেকে উঠুন: অফিস বা দিনের কাজ শুরু করার আগেই পর্যাপ্ত সময় রাখুন। ধীরে, সচেতনভাবে সকাল শুরু করুন।
মোবাইল ফোন পরিহার করুন: ঘুম ভেঙেই ফোনে চোখ রাখলে স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি বাড়ে। সকালের সময়কে নিজের জন্য রাখুন।
মননশীল কাজ করুন: স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম, ধ্যান, শান্ত গান শোনা, বই পড়া বা প্রার্থনা করতে পারেন।
পুষ্টিকর নাশতা উপভোগ করুন: স্বাস্থ্যকর ও সহজে হজমযোগ্য খাবার যেমন ডিম, দই, শাকসবজি, রুটি, বাদাম, খেজুর বা প্যানকেক। খাবার খেতে সময় নিন, রং, গন্ধ ও স্বাদ অনুভব করুন।
একটি ভালো চর্চা যোগ করুন: ত্বকের যত্ন, গাছের পানি দেওয়া, পোষা প্রাণীর যত্ন, ঘর গোছানো—যা আপনাকে আত্মতৃপ্তি দেবে।
সকালের রোদ উপভোগ করুন: ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়ার পাশাপাশি রোদের উষ্ণতা ও আলো অনুভব করুন।
স্লো মর্নিং রুটিন মানে শুধু সময় বাড়ানো নয়; এটি মানসিক শান্তি, স্বাস্থ্য ও সৃজনশীলতা বজায় রাখার একটি উপায়। আগের রাতে কিছুটা আগে ঘুমিয়ে পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করলে সকালের প্রতিটি মুহূর্ত অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও অন্যান্য