১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

হরিয়ানায় চিকিৎসকের দুই ভাড়া বাসা থেকে ৩ টন বিস্ফোরক উদ্ধার নিজস্ব প্রতিবেদন | ফরিদাবাদ (হরিয়ানা)

admin
প্রকাশিত ১১ নভেম্বর, মঙ্গলবার, ২০২৫ ০০:২৭:১৬
হরিয়ানায় চিকিৎসকের দুই ভাড়া বাসা থেকে ৩ টন বিস্ফোরক উদ্ধার নিজস্ব প্রতিবেদন | ফরিদাবাদ (হরিয়ানা)

Manual2 Ad Code

হরিয়ানার ফরিদাবাদে এক চিকিৎসকের ভাড়া নেওয়া দুটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের ওজন প্রায় ২ হাজার ৯০০ কেজি (প্রায় ৩ টন)

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই চিকিৎসকের নাম মুজাম্মিল শাকিল, যিনি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা। তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

Manual6 Ad Code

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া পদার্থ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, যা সাধারণত বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ফরিদাবাদ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে সকাল থেকে ওই দুটি বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে।

গতকাল রোববার ধোজ এলাকায় শাকিলের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে—

Manual3 Ad Code

  • ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য

  • ২০টি টাইমার

  • অ্যাসল্ট রাইফেল, হ্যান্ডগান ও গোলাবারুদ

    Manual5 Ad Code

এ ছাড়া পাওয়া গেছে আরও—

  • ১টি পিস্তল

  • ৮টি গুলি

  • ২টি খালি কার্তুজ

  • ২টি অতিরিক্ত ম্যাগাজিন

  • ৮টি বড় ও ৪টি ছোট স্যুটকেস

  • ১টি বালতি

পুলিশ জানায়, মুজাম্মিল শাকিল ধোজ এলাকায় সাড়ে তিন বছর ধরে বসবাস করছিলেন। জইশ-ই-মোহাম্মদ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের প্রমাণ মেলায় প্রায় ১০ দিন আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দ্বিতীয় বাড়িটি ধোজ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে ফতেহপুর টাগা গ্রামে। ওই বাড়ির মালিক, যিনি একজন মাওলানা, তাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর, আনন্তনাগ, গান্ডারবাল, শোপিয়ানসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং ফরিদাবাদে ‘প্রথম শ্রেণির পেশাজীবীদের জঙ্গি নেটওয়ার্ক’ উদ্ঘাটিত হয়েছে।

এই নেটওয়ার্কে অনেক শিক্ষিত পেশাজীবী, বিশেষ করে চিকিৎসকরা, জড়িত বলে জানা গেছে। গত ১৫ দিনের অভিযানে ২ হাজার ৯০০ কেজির বেশি বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে কর্মরত কাশ্মীরি চিকিৎসক ড. আদিল আহমদ রাঠেরকে জইশ-ই-মোহাম্মদ সমর্থনকারী পোস্টার লাগানোর অভিযোগে আটক করা হয়।

মুজাম্মিল শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর এক নারী সহকর্মীর সুইফট গাড়ি থেকে আরও একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ও পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ওই নারী চিকিৎসককেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই ‘পেশাজীবী জঙ্গি চক্র’ পাকিস্তানসহ বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। তারা শুধু প্রচারমূলক কার্যক্রম নয়, সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও জড়িত

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন—
আরিফ নিসার দার, ইয়াসির উল আশরাফ, মাকসুদ আহমদ দার (শ্রীনগর), মৌলভি ইরফান আহমদ (শোপিয়ান)জমির আহমদ আহাঙ্গার (গান্ডারবাল)

Manual6 Ad Code

অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আইইডি তৈরির নির্দেশনামূলক বই ও বিভিন্ন গোপন নথিও।