ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা
পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ গ্যারি কারস্টেন অবশেষে মুখ খুললেন। গত এপ্রিলে সাদা বলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি ‘টকস্পোর্ট ক্রিকেট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ক্রিকেটে কাজের পরিবেশ এবং বোর্ড কর্তাদের মাত্রাতিরিক্ত হস্তক্ষেপই ছিল তার সরে দাঁড়ানোর প্রধান কারণ।
‘কোচদের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ’
কারস্টেন অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তান দলে একজন কোচের পক্ষে স্বাধীনভাবে পরিকল্পনা সাজানো প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন:
“সবচেয়ে বেশি যেটা আমাকে অবাক করেছে, তা হলো হস্তক্ষেপের মাত্রা। এর আগে আমি কখনো এমনটা দেখিনি। বাইরের লাগাতার হস্তক্ষেপের কারণে খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা দাঁড় করানো কঠিন হয়ে যায়। সবসময় বাইরে থেকে একটা চাপ এবং আওয়াজ থাকে।”
ব্যর্থতার দায়ভার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
পিসিবি-র সমালোচনা করে কারস্টেন জানান, দল প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে না পারলে সব দায় কোচের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার মতে, পারফরম্যান্স খারাপ হলে কোচকে বাদ দেওয়া বা বিধিনিষেধ চাপানো আসলে হিতে বিপরীত হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি কোচকে স্বাধীনভাবে কাজই করতে না দেওয়া হয়, তবে কোচ নিয়োগ দেওয়ার মানে কী?”
খেলোয়াড়দের নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব
বোর্ড কর্তাদের ওপর ক্ষোভ থাকলেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ। কারস্টেন বলেন, ভাষাগত কিছু বাধা থাকলেও ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করা তিনি দারুণ উপভোগ করেছেন। তার মতে, মাঠের ভাষা বা ক্রিকেটের ভাষা সবারই এক, তাই খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার রসায়ন ছিল চমৎকার।