১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

হাতিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও লুটপাট: এনসিপির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিচারের দাবি

admin
প্রকাশিত ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার, ২০২৬ ২১:২২:৫২
হাতিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও লুটপাট: এনসিপির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিচারের দাবি

Manual8 Ad Code

হাতিয়া প্রতিনিধি | নোয়াখালী

Manual7 Ad Code

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নোয়াখালীর হাতিয়া আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। গতকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের রিয়াজ মার্কেট এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

Manual2 Ad Code

সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন থেকে শুরু করে ফল ঘোষণার পর পর্যন্ত এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ১১ দলীয় জোটের শরিক দল এনসিপি (NCP)-র সমর্থকরা। সোনাদিয়া বাংলাবাজার ও রিয়াজ মার্কেট এলাকায় অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও গবাদিপশুর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী দীপক চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, “ভোটের পরদিন রাতে বাজারে এনসিপির লোকজন আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করে। তারা বলে— আগে আওয়ামী লীগ করছ, এখন ধানের শীষে ভোট দিয়েছ কেন?”

Manual6 Ad Code

অন্য এক ভুক্তভোগী হাছান জানান, বিজয় মিছিলের নাম করে দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে ঢুকে গর্ভবতী ছাগলকে পিটিয়ে গর্ভপাত ঘটিয়েছে এবং তার স্ত্রীর গলা থেকে স্বর্ণের হার ছিনিয়ে নিয়েছে।

বুড়িরচর ও চরইশ্বরেও তাণ্ডব

সহিংসতা থেকে বাদ যায়নি বুড়িরচর ইউনিয়নও। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃদুল চন্দ্র দাসের বাড়িতে অস্ত্রধারী একদল লোক হামলা চালিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শী পল্লী চিকিৎসক খনেশ দাস জানান, হামলাকারীরা সিসি ক্যামেরা তল্লাশি করলে সহজেই ধরা পড়বে, কিন্তু বর্তমানে প্রাণের ভয়ে তারা বাজারেও যেতে পারছেন না।

এদিকে, গত রাতে চরইশ্বর ইউনিয়নের মুলা মার্কেটে হাজি কামাল সর্দারের সাতটি ঘর দুর্বৃত্তরা আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কামাল সর্দার দাবি করেন, তাঁর ছেলেরা ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় এনসিপির লোকজন তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।

অভিযুক্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য

ভুক্তভোগীরা এই সব নাশকতার পেছনে এনায়েত হোসেন, মহিউদ্দিন, হান্নান ডুবাই, ওছমান ও জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রকে দায়ী করেছেন। তারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, “ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। কিছু ঘটনা স্থানীয়ভাবে সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা হচ্ছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি।”


বক্তব্য ও দাবি:

  • দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

  • ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

  • লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ।

“আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই। ভোটের কারণে কেন আমাদের ঘরবাড়ি ও মা-বোনদের ওপর হামলা হবে?” — মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী নারী।

Manual4 Ad Code