১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

হাদি হত্যা মামলায় দুই আসামির স্বীকারোক্তি, একজন কারাগারে

admin
প্রকাশিত ০১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ২১:৫৭:২৯
হাদি হত্যা মামলায় দুই আসামির স্বীকারোক্তি, একজন কারাগারে

Manual7 Ad Code

ঢাকা, বৃহস্পতিবার

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদকে ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সঞ্জয় চিসিম এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ফয়সাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলমের খাসকামরায় তাঁরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্টন মডেল থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান।

Manual4 Ad Code

সূত্র জানায়, সঞ্জয় চিসিম তাঁর জবানবন্দিতে প্রধান আসামি ফয়সালের পলায়নে নিজের ভূমিকা এবং ফিলিপ নামের আরেকজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে ফয়সাল করিম মাসুদ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহকারী সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে সিবিউন দিউকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডিবি পুলিশ জানায়, সঞ্জয় চিসিম ও সিবিউন দিউকে গত ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই দিনে ফয়সাল করিম মাসুদকেও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার এই তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়।

Manual6 Ad Code

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ সঞ্জয় ও ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার এবং সিবিউনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত সিবিউনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সঞ্জয় ও ফয়সালের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁদেরও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে হাদি হত্যায় অংশ নেওয়া ফয়সাল ও আলমগীর শেখকে ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট এলাকা থেকে সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম দফায় তিন দিনের এবং পরে ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

Manual5 Ad Code

মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব গত ১৬ ডিসেম্বর নরসিংদী সদর উপজেলার তরুয়া এলাকা থেকে ফয়সাল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেখানো মতে, ওসমান হাদিকে হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল ও গুলি স্থানীয় তরুয়া বিল থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয় এবং ওই মামলায় ফয়সালকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে ওসমান হাদিকে। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। পরে হত্যাচেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

Manual3 Ad Code