৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

হাদি হত্যা মামলার এক অভিযুক্তের ১৭টি সক্রিয় সিম, সিমসংখ্যা কমাতে বিটিআরসিকে তাগিদ

admin
প্রকাশিত ০১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ২২:০৩:০৫
হাদি হত্যা মামলার এক অভিযুক্তের ১৭টি সক্রিয় সিম, সিমসংখ্যা কমাতে বিটিআরসিকে তাগিদ

Manual6 Ad Code

ঢাকা, বৃহস্পতিবার

Manual4 Ad Code

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার এক অভিযুক্তের নামে ১৭টি সক্রিয় মোবাইল সিম পাওয়ার ঘটনায় মোবাইল সিম ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জনপ্রতি মোবাইল সিমের সংখ্যা কমানো এবং এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তাগিদ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Manual7 Ad Code

বৃহস্পতিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে মোবাইল ফোনের শুল্ক ও কর কমানোর ঘোষণার পাশাপাশি এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

Manual2 Ad Code

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড সারা দেশে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং ওই ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির নামে ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়ার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ অবস্থায় এনইআইআর বাস্তবায়ন ও জনপ্রতি সিমের সংখ্যা সীমিত করার বিষয়ে জোরালো সুপারিশ এসেছে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে।

হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ রাজধানীর বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের যুগ্ম সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ফয়সালকে আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর ১৯ ডিসেম্বর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে মামলার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ এখনো পলাতক। পুলিশ শুরুতে দাবি করেছিল তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক যুবক নিজেকে ফয়সাল পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন।

Manual2 Ad Code

সরকার এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হতে পারে।