ময়মনসিংহে জোর করে বৃদ্ধ হালিম উদ্দিন আকন্দের (৭০) চুল-দাড়ি কেটে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। আজ শুক্রবার ভোরে থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত নগরীর জয়নুল আবেদিন উদ্যানসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের বরইতলায় এই আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন পরম্পরা। একই সঙ্গে কিংবদন্তি লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের স্মরণেও অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয়।
বরইগাছের নিচে সাদা কাপড় বিছিয়ে লালনের গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। চারদিকে জড়ো হয়ে দর্শকেরা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে শুরুতেই মাজার ভাঙা, সংস্কৃতিতে আঘাত এবং মানুষের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করা হয়। পরে প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কবি শামীম আশরাফের চুল কেটে দেওয়া হয়।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কবি শামীম আশরাফ বলেন, “তিনজন মানুষ একজন বৃদ্ধকে ধরে চুল কেটে দিল। শেষ মুহূর্তে তিনি বললেন—‘আল্লাহ তুই দেহিস’। আমরা সেই ‘দেহিস’-এর ভেতর দিয়েই প্রতিবাদ জানাই। শিল্প-সংস্কৃতি ও মাজার সংস্কৃতির ওপর যে আঘাত হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।”
তিনি আরও জানান, শিল্প-সংস্কৃতির নগরী ময়মনসিংহে লালনকন্যা ফরিদা পারভীনের প্রয়াণে তেমন কোনো বড় আয়োজন না হওয়ায় তাঁরা ক্ষুদ্র এই স্মরণসভা করেছেন।
শিল্পী খাইরুল ইসলাম বলেন, “লালনের গান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে যে মানুষটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন, তিনি ফরিদা পারভীন। তাঁর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব এখন এই সুর ও সংগীতকে এগিয়ে নেওয়া।”
সংস্কৃতিকর্মীরা জানান, লালনের বাণীকে ধারণ করে এবং ফরিদা পারভীনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা এই আয়োজন করেছেন। একই সঙ্গে সংস্কৃতিতে আঘাত ও মানুষের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান জানাতে ব্রহ্মপুত্র নদের পারে এই আয়োজন করা হয়।

