ডেস্ক রিপোর্ট | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে পাসপোর্টের সক্ষমতা যাচাইকারী অন্যতম মানদণ্ড ‘হেনলি পাসপোর্ট সূচক ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই সূচকে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে। ভারত গত বছরের তুলনায় ১০ ধাপ এগিয়ে ৭৫তম স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও ৫ ধাপ উন্নতি করে বর্তমানে ৯৫তম অবস্থানে রয়েছে।
ভারতের অবস্থান: র্যাঙ্কিং বাড়লেও কমেছে সুবিধা
২০২৬ সালের সূচকে ভারত গত বছরের ৮৫তম স্থান থেকে ১০ ধাপ লাফিয়ে ৭৫তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে মজার বিষয় হলো, র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধরনের উন্নতি হলেও ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে এমন দেশের সংখ্যা ৫৭টি থেকে কমে ৫৬টিতে দাঁড়িয়েছে।
-
কেন সুবিধা কমল: মূলত ইরান ও বলিভিয়া তাদের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনায় ভারত এই তালিকায় কাটছাঁট হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে ইরান ভারতীয়দের জন্য ভিসা-মুক্ত সুবিধা স্থগিত করে এবং বলিভিয়া ‘অন-অ্যারাইভাল’ ভিসার পরিবর্তে ‘ই-ভিসা’ ব্যবস্থা চালু করে।
-
কেন র্যাঙ্কিং বাড়ল: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি তুলনামূলক সূচক। ভারতের স্কোর সামান্য কমলেও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অন্যান্য অনেক দেশের পাসপোর্টের মান আরও বেশি অবনমিত হয়েছে, ফলে ভারত ওপরে উঠে এসেছে। বর্তমানে ভারত নাইজার ও আলজেরিয়ার সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নতি: ৫ ধাপ এগিয়ে ৯৫ নম্বরে
নতুন এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম থেকে ৯৫তম স্থানে উন্নীত হয়েছে।
-
ভিসামুক্ত গন্তব্য: বর্তমানে বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ৩৭টি দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাতায়াত করতে পারেন।
-
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট: দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ মালদ্বীপ (৫২তম), ভারত (৭৫তম) ও ভুটানের (৮৫তম) চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও নেপাল (৯৬তম), পাকিস্তান (৯৮তম) ও আফগানিস্তানের (১০১তম) চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
বৈশ্বিক শীর্ষ দেশসমূহ
সিঙ্গাপুর টানা কয়েক বছরের মতো এবারও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে।
-
সিঙ্গাপুর: ১৯২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশ।
-
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া: ১৮৮টি গন্তব্য।
-
ডেনমার্ক, সুইডেন, স্পেন: ১৮৬টি গন্তব্য।
সূচক নির্ধারণের পদ্ধতি
লন্ডনভিত্তিক সংস্থা ‘হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস’ ১৯৯টি পাসপোর্টকে ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের বিপরীতে মূল্যায়ন করে এই তালিকা তৈরি করে। এতে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (IATA)-এর তথ্য ব্যবহার করা হয়। মূলত আগাম ভিসা ছাড়া কতটি দেশে প্রবেশ করা যায়, তার ওপর ভিত্তি করেই এই পয়েন্ট নির্ধারিত হয়।