
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নিউ ইয়র্ক ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ব্যক্তিগত মন্তব্য এখন বিশ্বরাজনীতির অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো বাসভবনে এক ঘনিষ্ঠ আড্ডায় ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প শান্তভাবে নিজের মৃত্যুর সময়কাল নিয়ে যে অনুমান করেছেন, তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্ররা।
নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি টেলিভিশনের পর্দায় যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের কফিন ক্যাপিটল হিলে প্রদর্শিত হচ্ছিল, তখন ট্রাম্প আবেগহীনভাবে বলেন, "জানো তো, ১০ বছরের মধ্যেই সেটা আমি হব।" উপস্থিত সূত্রমতে, ট্রাম্পের এমন আকস্মিক ও সরাসরি মন্তব্য ঘরে উপস্থিত অতিথিদের স্তব্ধ করে দেয়। বর্তমানে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে ২০২৮ সালের নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়া নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ‘মৃত্যুচিন্তা’ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ট্রাম্প নিজেকে মানসিকভাবে দারুণ সক্রিয় দাবি করলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে:
শারীরিক লক্ষণ: ট্রাম্পের হাতে রহস্যময় কালচে দাগ এবং প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান চলাকালে বারবার তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়াকে ভালো চোখে দেখছেন না চিকিৎসকরা।
চিকিৎসা তথ্য: সাবেক হোয়াইট হাউস আইনজীবী টাই কব জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মানসিক অবস্থার অবনতি এখন বেশ স্পষ্ট। এছাড়া জানা গেছে, তিনি প্রতিদিন যে পরিমাণ অ্যাসপিরিন গ্রহণ করেন, তা সাধারণত স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এমআরআই বিতর্ক: ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে ট্রাম্পের এক গোপন এমআরআই পরীক্ষার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হোয়াইট হাউস।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পরিস্থিতির মধ্যে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে তিনি নিজের উত্তরাধিকার ও মৃত্যু নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে কথা বলছেন, অন্যদিকে জনসমক্ষে নিজেকে ‘অতিমানবীয়’ নেতা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিধান থাকলেও, তিনি বারবার তৃতীয় এমনকি চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি—ক্ষমতায় থাকাই তাঁকে জীবিত ও কর্মক্ষম রাখে।
"ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—একদিকে তিনি মৃত্যু নিয়ে কথা বলছেন; অন্যদিকে নিজেকে এমন এক নেতা ভাবছেন যিনি সময় ও বয়স দুটোকেই জয় করতে পারেন।" > — নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন
হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা যে অন্যতম প্রধান ইস্যু হতে যাচ্ছে, তা এখন অনেকটাই নিশ্চিত।