আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রোম গয়না বা টাকা নয়, এবার চোরদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বিপুল পরিমাণ চকলেট! ইতালি থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছে প্রায় ১২ টন ওজনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি কিটক্যাট বার। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই চুরির ঘটনায় যেমন বিস্ময় জেগেছে, তেমনি রসিকতায় মেতেছে খোদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেসলে’।
নেসলের মজাদার প্রতিক্রিয়া
চুরির ঘটনায় নেসলে কোম্পানি এক বিবৃতিতে রসিকতার ছলে বলেছে:
“আমরা সব সময় মানুষকে কিটক্যাটের সঙ্গে একটু বিরতি (Break) নেওয়ার কথা বলি। তবে চোরেরা মনে হচ্ছে বিষয়টি খুব আক্ষরিক অর্থেই নিয়েছে—১২ টনের বেশি চকলেট নিয়ে তারা নিজেরাই এক লম্বা ‘ব্রেক’ নিয়ে নিয়েছে!”
তবে এই হাসির আড়ালে কোম্পানিটি একটি গুরুতর বার্তাও দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ‘কার্গো হাইজ্যাকিং’ বা পণ্যবাহী ট্রাক থেকে মালামাল চুরি বর্তমানে ব্যবসার জন্য একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করে এই ধরনের চুরি বাড়াচ্ছে, যা নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ সংস্করণের ‘রেসিং কার’ চকলেট
নিখোঁজ হওয়া কিটক্যাটগুলো সাধারণ কোনো চকলেট ছিল না। এগুলো ছিল বিশেষ সংস্করণের (Special Edition)। গত বছর কিটক্যাট ব্র্যান্ড ‘ফর্মুলা ওয়ান’ (F1)-এর অফিশিয়াল পার্টনার হওয়ার পর ছোট রেসিং কারের আদলে এই চকলেটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। বিশেষ আকৃতির কারণে এগুলো সংগ্রাহকদের কাছেও বেশ আকর্ষণীয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিমের বন্যা
ঘটনাটি জানাজানি হতেই ইন্টারনেটে মিমের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নেটিজেনরা নানারকম মন্তব্য করছেন:
-
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যে চুরি করেছে, সে হয়তো এই কিটক্যাট খেয়েই সারা জীবন কাটিয়ে দেবে!”
-
অন্য একজনের প্রশ্ন, “এত বিশাল পরিমাণ চকলেট না গলিয়ে চোরেরা সংরক্ষণ করবে কীভাবে?”
-
কেউ কেউ আবার একে কোনো অ্যাকশন সিনেমার গল্পের সাথে তুলনা করেছেন।
শনাক্ত করার উপায় ও নিরাপত্তা
নেসলে জানিয়েছে, এই চকলেটগুলো ইউরোপের কালোবাজারে বা অনানুষ্ঠানিক বাজারে বিক্রির চেষ্টা হতে পারে। তবে প্রতিটি পণ্যে আলাদা ‘ব্যাচ কোড’ থাকায় সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হবে। কোম্পানি আরও আশ্বস্ত করেছে যে, এই চুরির ফলে বাজারে সরবরাহের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং ভোক্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও তারা নজরে রাখছেন।