৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ: তীব্র কূটনৈতিক চাপে অন্তর্বর্তী সরকার

admin
প্রকাশিত ১৭ জানুয়ারি, শনিবার, ২০২৬ ১১:২৬:৩৯
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ: তীব্র কূটনৈতিক চাপে অন্তর্বর্তী সরকার

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

Manual2 Ad Code

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা থাকলেও তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে—এমন প্রশ্ন এখন কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমা শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ওপর চাপ বাড়ছে।

মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

গত ১৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই কূটনীতিক (অ্যালবার্ট গোম্বিস এবং মোর্স ট্যান) সাক্ষাৎ করেন। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দীর্ঘ এক ঘণ্টার এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেছেন যে, আওয়ামী লীগবিহীন কোনো নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যমতে, বৈঠকে ড. ইউনুসের কাছে সময়মতো ক্ষমতা হস্তান্তর এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলা হয়।

ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন ও রাজনৈতিক সমঝোতা

বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ (সত্য ও পুনর্মিলন) নীতি গ্রহণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে ড. ইউনুস জানিয়েছেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের অপরাধ স্বীকার না করার কারণে বর্তমানে এই ধরনের উদ্যোগের পরিবেশ তৈরি হয়নি। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন যে, একটি চক্র ভুয়া খবর ও এআই (AI) জেনারেটেড ভিডিওর মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

Manual2 Ad Code

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের কথিত উত্থান এবং স্পর্শকাতর বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।

অনিশ্চয়তার মুখে ১২ ফেব্রুয়ারি

ড. ইউনুস দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, “নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে—এক দিন আগেও নয়, পরেও নয়।” তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন সংকেত দিচ্ছে।

Manual1 Ad Code

  • অর্থনৈতিক নির্ভরতা: দেশের অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাকায় প্রতিবেশীর সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

  • অন্তর্ভুক্তি: প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় না নিয়ে নির্বাচন করলে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

    Manual5 Ad Code

সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে কি না এবং হলেও তা আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি পাবে কি না, তা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই রসায়ন এখন পর্যবেক্ষণের তুঙ্গে।