২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

১৩তম সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই চার্টার’ গণভোট চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

admin
প্রকাশিত ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ২১:৪০:২১
১৩তম সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই চার্টার’ গণভোট চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রস্তাবিত ‘জুলাই চার্টার’ সংক্রান্ত গণভোট আয়োজনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়ার নেতৃত্বে একদল আইনজীবী জনস্বার্থে এই আবেদনটি দাখিল করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিক নাদিম আহমেদের পক্ষে দায়ের করা এই রিটে সংবিধানের সর্বোচ্চতা রক্ষা এবং নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

রিটে উত্থাপিত মূল অভিযোগসমূহ:

রিট আবেদনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়:

  • আইন লঙ্ঘন: নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে এবং ২০২৫ সালের নির্বাচনী আচরণবিধি ও ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটছে।

    Manual8 Ad Code

  • নিরপেক্ষতার অভাব: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, যাদের আইনত নিরপেক্ষ থাকার কথা, তারা প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

  • রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার: অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি প্ল্যাটফর্ম, প্রশাসনিক যন্ত্র এবং একটি নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে গণভোটের প্রচার চালানো হচ্ছে, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী।

আইনি নোটিশ ও কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা:

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্যপ্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনকে আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কমিশনের এই নিষ্ক্রিয়তাকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।

Manual3 Ad Code

আইনজীবীদের বক্তব্য:

রিট দাখিল শেষে অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া সাংবাদিকদের বলেন,

Manual4 Ad Code

“এই রিট কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নির্বাহী হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে একটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যখন জনগণের স্বাধীন পছন্দকে প্রভাবিত করে, তখন গণতন্ত্র ঝুঁকির মুখে পড়ে।”

রিটে চাওয়া প্রতিকার:

আবেদনকারীরা আদালতের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন: ১. নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নিষ্ক্রিয়তাকে আইনগত কর্তৃত্বহীন ঘোষণা করা। ২. বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ। ৩. নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ।

রিটকারী আইনজীবী দল:

অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়ার নেতৃত্বে এই আইনি লড়াইয়ে যুক্ত রয়েছেন অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, তামান্না ফেরদৌস, ফারজানা রহমান শম্পা, সুবীর নন্দী দাস, সায়েম মোহাম্মদ মুরাদ, মুহতাদি হোসেন, ফয়সাল আহমেদ রনি, নাহিদ ইসলাম চৌধুরী, বিপ্লব কুমার দাস এবং শাহাদাত হোসেন শিমুল।

আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

Manual1 Ad Code