
– সুনির্মল সেন
গত ১৫ দিনে বাংলাদেশের মানচিত্র জুড়ে এক রক্তক্ষয়ী বিভীষিকা নেমে এসেছে। দীপু দাস থেকে শুরু করে সর্বশেষ মনি চক্রবর্ত্তী—এই নামগুলো আজ কেবল স্বজন হারানো পরিবারের কান্না নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার এক জীবন্ত দলিল। ১৫ দিনে ৭ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করছে যে, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে সংখ্যালঘুদের জীবন আজ এক চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে।
প্রশাসনের নীরবতা ও অপরাধীদের আসকারা একটি দেশে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ঘটে যাওয়ার পরও যখন দৃশ্যমান কোনো বিচার বা গ্রেপ্তার দেখা যায় না, তখন জনমনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—এই নীরবতা কি সম্মতির লক্ষণ? প্রশাসনের এই অচল অবস্থা এবং সরকারের নিস্পৃহতা অপরাধীদের মনে এই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছে যে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালালে কোনো জবাবদিহিতা নেই। আইনের শাসনের এই অভাব কি তবে কোনো গভীর চক্রান্তের অংশ?
সাংবিধানিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক দায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কোনো রাষ্ট্রীয় করুণা বা দান নয়; এটি রাষ্ট্রের মৌলিক সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে যেভাবে একের পর এক প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, তাতে এই শাসনের বৈধতা ও নৈতিকতা বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তখন সেই ব্যর্থতার রাজনৈতিক মূল্য অনেক চড়া হয়।
উপসংহার জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানুষ যখন একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, তখন নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলা সেই স্বপ্নকেই ম্লান করে দিচ্ছে। এই রক্তপাতের দায় বর্তমান প্রশাসনকে নিতেই হবে। মনে রাখতে হবে, আজ যদি রাষ্ট্র নীরব থাকে, তবে আগামী দিনগুলোতে এই অস্থিরতা সমগ্র জাতিকেই গ্রাস করবে।