নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভোটের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের (৬ মাস) বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে নবগঠিত সরকার। আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল মন্ত্রণালয়কে এই নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা ও ১৮০ দিনের লক্ষ্য
বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের আগে ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই ১৮০ দিনের কর্মসূচি। তিনি বলেন, “৩১ দফা শুধু বিএনপির কর্মসূচি ছিল না, এটি সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ পরিকল্পনা। আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রথম ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করছি।”
রমজান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
মন্ত্রিসভার সদস্যরা জানান, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্যমন্ত্রী জানান, ইফতার ও তারাবির সময় যেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট না ঘটে এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক থাকে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অনুশাসন দিয়েছেন।
জনগণের প্রত্যাশা ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার প্রতিফলন ঘটাতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় কীভাবে কাজ করবে, প্রধানমন্ত্রী সেই দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরে বলেন:
-
দ্রব্যমূল্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
-
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটানো।
-
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পেশ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রতিটি মন্ত্রণালয় একযোগে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবে। সরকারের এই ‘১৮০ দিনের মিশন’ সফল করতে প্রশাসনের সর্বস্তরে গতিশীলতা আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।