
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | লন্ডন ও তেহরান তারিখ: ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দেশজুড়ে জারি করা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ১৮ ঘণ্টা পার হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট অবকাঠামো পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার (Cloudflare) জানিয়েছে, দেশটির সিংহভাগ অঞ্চল এখনো কার্যত অফলাইন বা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
ক্লাউডফ্লেয়ারের ডেটা অনুযায়ী, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টার (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা) দিকে ইরানের কিছু অংশে সীমিত আকারে ইন্টারনেট ট্রাফিক সচল হতে শুরু করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে:
ট্রাফিকের পরিমাণ: ইন্টারনেটে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ এখনো ‘অত্যন্ত কম’ পর্যায়ে রয়েছে, যা স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় নগণ্য।
সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ: দেশটির বেশির ভাগ মানুষ এখনো কোনো ধরনের ডিজিটাল যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছেন না।
ইরানে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। এই বিক্ষোভ দমনে এবং সংঘাতের খবর প্রচার রুখতে দেশটির সরকার বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
অনলাইন পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস (NetBlocks) জানিয়েছে, ইরানে বর্তমানে জাতীয় কানেক্টিভিটি স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে তেহরান, ইসফাহান এবং শিরাজের মতো বড় শহরগুলোতে মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন উভয় ইন্টারনেটই বিচ্ছিন্ন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো এই ব্ল্যাকআউট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে:
তথ্যের অভাব: ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর সম্ভাব্য দমন-পীড়নের সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
নিরাপত্তা ঝুঁকি: তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন ও বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
বিচ্ছিন্ন ইরান: মূলত বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে বিক্ষোভ দমানোর এই কৌশলকে ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইন্টারনেট সচল করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।