
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২৬ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫৫তম বার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ২৬ মার্চে এমন কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সকাল ১০টায় মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রায় প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে ৯টা ৫৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানগণ রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
সালাম গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপতি খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যান্ড দলে ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’ গানের সুর বেজে ওঠে।
সাভারের নবম পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি এবং বিএনসিসি কন্টিনজেন্টগুলো অংশ নেয়। কুচকাওয়াজের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো ছিল:
মুক্তিযোদ্ধা কন্টিনজেন্ট: মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল খোলা জিপে চড়ে রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শন করে।
ভারী যুদ্ধাস্ত্র প্রদর্শনী: সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র ট্যাংক, কামানসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রদর্শিত হয়।
প্যারাট্রুপারদের অবতরণ: ২৬ জন প্যারাট্রুপার ১০ হাজার ফুট ওপর থেকে জাতীয় ও বাহিনীগুলোর পতাকা নিয়ে প্যারেড গ্রাউন্ডে অবতরণ করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিমানবাহিনীর ফ্লাই পাস্ট ও অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে।
‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’—এই প্রতিপাদ্যে পাঁচটি এফ-সেভেন (F-7) যুদ্ধবিমান আকাশে বর্ণিল ধোঁয়া ছেড়ে মুগ্ধকর মহড়া প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে মিগ-২৯ (MiG-29) যুদ্ধবিমানগুলো ‘লো লেভেল ফ্লাইং’ এবং ‘ভিক্টরি রোল’ প্রদর্শন করে মেঘের আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রদর্শনী শেষ করে।
গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাধারণত ১৬ ডিসেম্বর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হতো। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৮ বছর পর স্বাধীনতা দিবসে এই কুচকাওয়াজ পুনরায় শুরু হলো। এবারের অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল, যা উৎসুক মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিদেশি কূটনীতিক এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।