১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

২০০ মার্কিন সেনা হতাহতের দাবি ইরানের, ‘ভিত্তিহীন’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র: তুঙ্গে তথ্যযুদ্ধ

admin
প্রকাশিত ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, ২০২৬ ২৩:২৬:২৭
২০০ মার্কিন সেনা হতাহতের দাবি ইরানের, ‘ভিত্তিহীন’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র: তুঙ্গে তথ্যযুদ্ধ

Manual6 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় সরাসরি যুদ্ধের সমান্তরালে এবার শুরু হয়েছে প্রবল মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের পাল্টা হামলায় বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহতের দাবি করলেও তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। রণক্ষেত্রের পাশাপাশি এখন জনমত গঠনের এই ‘তথ্যযুদ্ধ’ বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ইরানের দাবি: ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’-এর সাফল্য

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আইআরজিসি আজ ঘোষণা করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তাদের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০০ জন আমেরিকান সৈন্য নিহত ও আহত হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে:

Manual6 Ad Code

  • তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

  • এই হামলায় সেন্টকমের একটি গুরুত্বপূর্ণ রণতরী বা জাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    Manual6 Ad Code

  • আইআরজিসি এই অভিযানকে তাদের ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে বড় বিজয় বলে প্রচার করছে।

সেন্টকমের পাল্টা বক্তব্য: ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন সেন্টকমের (CENTCOM) একজন মুখপাত্র ইরানের এই দাবিগুলোকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন:

  • ২০০ মার্কিন সেনা হতাহতের তথ্যটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং এটি কেবল ইরানের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।

    Manual2 Ad Code

  • মার্কিন কোনো জাহাজ বা রণতরী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবিও সত্য নয়।

    Manual7 Ad Code

  • সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, তাদের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

বিশ্লেষণ: যুদ্ধের ময়দান এখন জনমত গঠনে

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি দুই পক্ষই এখন ‘পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট’ বা জনমত নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে নেমেছে।

১. ইরানের কৌশল: বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহতের খবর প্রচার করে আমেরিকার অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী জনমত তৈরি করা এবং নিজেদের জনগণের মনোবল চাঙ্গা রাখা। ২. যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল: নিজেদের সক্ষমতা ও অজেয়তা প্রমাণ করা, যাতে মিত্র দেশগুলো আতঙ্কিত না হয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

অনিশ্চয়তার মুখে বিশ্ব পরিস্থিতি

২০২৫ সালের জুনের সংঘাতের সময়ও ঠিক একইভাবে দুই পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের কঠোর গোপনীয়তার কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এই লড়াই এখন এক বিশাল অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।