২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

৩৩ শিশুকে যৌন নির্যাতন: উত্তরপ্রদেশে দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড, ‘রেয়ারেস্ট অব রেয়ার’ রায়

admin
প্রকাশিত ২১ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, ২০২৬ ১৫:৫৩:০৮
৩৩ শিশুকে যৌন নির্যাতন: উত্তরপ্রদেশে দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড, ‘রেয়ারেস্ট অব রেয়ার’ রায়

Manual3 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উত্তরপ্রদেশ, ভারত ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় ৩৩ শিশুকে পৈশাচিক যৌন নির্যাতনের দায়ে এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দেশটির ‘প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস’ (পকসো) আদালত এই ঐতিহাসিক ও কঠোর রায় ঘোষণা করেন।

দোষী সাব্যস্ত ও অভিযোগের ধরণ

অভিযুক্ত দম্পতি রামভবন এবং তাঁর স্ত্রী দুর্গাবতীকে শিশুদের ওপর চালানো বর্বরোচিত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পকসো আইনের আওতায় নিম্নলিখিত অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে:

  • অস্বাভাবিক যৌনাচার ও গুরুতর যৌন নির্যাতন।

    Manual1 Ad Code

  • শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও সংরক্ষণ।

    Manual3 Ad Code

  • অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও নৃশংস শারীরিক আঘাত।

    Manual5 Ad Code

নির্যাতনের ভয়াবহতা ও ক্ষতিপূরণ

তদন্তে জানা গেছে, নির্যাতিত শিশুদের মধ্যে অনেকের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। দীর্ঘ এক দশকের (২০১০-২০২০) এই অপরাধযজ্ঞে শিশুদের গোপনাঙ্গ ও চোখে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে অনেককে বছরের পর বছর হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে।

আদালতের বিশেষ নির্দেশ:

  • প্রত্যেক নির্যাতিত শিশুকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

  • অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থ ভুক্তভোগীদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করতে হবে।

  • ভুক্তভোগী শিশুদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদী কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা।

যেভাবে চলত অপরাধচক্র

সেচ দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রামভবন শিশুদের প্রলুব্ধ করতে অনলাইন ভিডিও গেম, টাকা এবং বিভিন্ন উপহারের লোভ দেখাত। ২০২০ সালের অক্টোবরে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) মামলাটি হাতে নেওয়ার পর চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিবিআই এই দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারক এই মামলাটিকে ‘রেয়ারেস্ট অব রেয়ার’ (বিরল থেকে বিরলতম) হিসেবে অভিহিত করেছেন। রায়ে বলা হয়:

Manual5 Ad Code

“অপরাধের পদ্ধতিগত নৃশংসতা এবং অভিযুক্ত দম্পতির চারিত্রিক অধঃপতন প্রমাণ করে যে তাঁদের সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। সমাজকে কঠোর বার্তা দিতে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থেই এই চরম দণ্ডাদেশ দেওয়া হলো।”