
আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে যখন ‘৫জি’ প্রতীকটি দেখা যায়, তখন ব্যবহারকারীরা ধরে নেন যে তাঁরা অতিদ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রতীক অনেক সময় বিভ্রান্তিকর।
যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংস্থা পলিসিট্র্যাকার এবং বিবিসির মর্নিং লাইভ অনুষ্ঠানে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, প্রায় ৪০ শতাংশ সময় ফোনে ৫জি প্রতীক দেখা গেলেও, বাস্তবে ডেটা আদান–প্রদান হচ্ছে পুরোনো ৪জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
এর মানে, গ্রাহকেরা ৫জি পরিষেবার জন্য বেশি বিল পরিশোধ করলেও, অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতির ৪জি সংযোগই পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিনে ৫জি লোগো দেখানোর অর্থ কেবল ওই এলাকায় ৫জি সিগন্যালের উপস্থিতি বোঝানো— কিন্তু ফোনটি সেই দ্রুততম নেটওয়ার্কে সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত কি না, তা নিশ্চিত করে না।
তাত্ত্বিকভাবে ৫জি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ গতি প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০ মেগাবিট (এমবিপিএস) পর্যন্ত হতে পারে—যা দিয়ে এক মিনিটেরও কম সময়ে ১৮টি এইচডি চলচ্চিত্র ডাউনলোড করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে এই গতি সাধারণ ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন না।
মোবাইল অপারেটর ও সরকারের বিপুল বিনিয়োগের পরও ৫জি পরিষেবা অনেক বাধার মুখে পড়েছে। ৫জি প্রযুক্তিতে গতি ধরে রাখতে তুলনামূলকভাবে ছোট দূরত্বে বেশি সংখ্যক টাওয়ার স্থাপন করতে হয়, যা এখনো অনেক অঞ্চলে সম্ভব হয়নি।
পলিসিট্র্যাকারের বিশেষজ্ঞ মার্টিন সিমনস বলেন,
“ফোনে ৫জি লোগো দেখা গেলেও, বেশির ভাগ সময় ডেটা ৪জি অবকাঠামোর মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা প্রত্যাশিত গতির পরিবর্তে ধীর ডাউনলোড বা বাফারিংয়ের সম্মুখীন হন।”
এই সমস্যা কাটাতে কিছু নেটওয়ার্ক এখন ‘স্ট্যান্ডালোন ৫জি’ নামের নতুন পরিষেবা চালু করেছে। এটি পুরোপুরি ৫জি অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল এবং প্রতিশ্রুত গতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই পরিষেবার জন্য বিশেষ ফোন প্ল্যান নিতে হয়, যার খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি।
কনজিউমার বিশেষজ্ঞ জেসপার গ্রিগসন বিবিসিকে বলেন,
“এই স্ট্যান্ডালোন ৫জি পরিষেবাটি এখনো অনেকের জন্য ব্যয়বহুল এবং বড় শহরের বাইরে কভারেজ অসম্পূর্ণ। তবে স্টেশন বা ব্যস্ত এলাকায় গতি তুলনামূলক ভালো।”
তিনি আরও বলেন,
“গ্রাহকদের স্বচ্ছতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁরা যা কেনেন, সেটাই পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকা উচিত।”
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন মোবাইল ইউকে জানিয়েছে, ৫জি আইকন মানেই সক্রিয় ৫জি সংযোগ নয়। এটি শুধু ব্যবহারকারী ৫জি সক্ষম এলাকায় আছেন, তা নির্দেশ করে। নেটওয়ার্কগুলো রিয়েল-টাইম সিগন্যালের ওপর ভিত্তি করে ব্যবহারকারীদের জন্য ৪জি বা ৫জির মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল সংযোগ বেছে নেয়।
গবেষকেরা পরামর্শ দিয়েছেন, ৫জি সেবা ব্যবহারকারীরা যদি প্রত্যাশিত গতি না পান, তাহলে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন—
গতি পরীক্ষা করুন: অনলাইন স্পিড টেস্টের মাধ্যমে আসল ডাউনলোড ও আপলোড রেট যাচাই করুন।
কভারেজ যাচাই করুন: নিজের এলাকায় কোন অপারেটরের ৫জি সিগন্যাল ভালো, তা কভারেজ ম্যাপ থেকে জেনে নিন।
প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন: সমস্যাটি অপারেটরকে জানিয়ে সমাধানের পথ খুঁজুন।
প্রোভাইডার পরিবর্তন করুন: ভালো কভারেজ পাওয়া গেলে অন্য অপারেটরে সুইচ করতে পারেন।