২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

৬০ লাখ দোকান কর্মচারীর ঈদ বোনাস ও ওভারটাইম ভাতার দাবি, আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি

admin
প্রকাশিত ২০ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, ২০২৬ ১৫:০০:০৭
৬০ লাখ দোকান কর্মচারীর ঈদ বোনাস ও ওভারটাইম ভাতার দাবি, আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সারাদেশের প্রায় ৬০ লাখ দোকান, রিটেইল, শপিংমল ও চেইনশপের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের বোনাস এবং অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) ন্যায্য ভাতার দাবি জানিয়েছে জাতীয় দোকান কর্মচারী ফেডারেশন। এই দাবি আদায় না হলে সভা-সমাবেশসহ দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।

Manual8 Ad Code

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও বঞ্চনার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক আমিন বলেন, “রমজান মাসজুড়ে দোকান কর্মচারীদের প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি দিতে হয়। অথচ অনেক ক্ষেত্রে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করলেও তারা অতিরিক্ত কোনো ভাতা পান না।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী সপ্তাহে দেড় দিন ছুটির বিধান থাকলেও অধিকাংশ কর্মচারী সপ্তাহে একদিনও ছুটি পান না। এমনকি নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র ছাড়াই তাদের কাজ করতে হচ্ছে।

‘বোনাস মালিকের দয়া নয়, আইনি অধিকার’

নেতাকর্মীরা জানান, আগামী ২০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বোনাস প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা স্পষ্ট করে বলেন, ঈদ বোনাস কোনো মালিকের ইচ্ছাধীন বিষয় নয়, এটি শ্রমিকের আইনসংগত অধিকার। দেশের অন্যান্য খাতের শ্রমিকরা বোনাস পেলেও বিশাল এই শ্রমশক্তি বরাবরই বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।

প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • ঈদ বোনাস: ঈদের আগে শ্রম আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বোনাস পরিশোধ।

  • ওভারটাইম ভাতা: অতিরিক্ত কাজের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা।

  • খাবারের ব্যবস্থা: রাত ১০টার পর কাজ করালে কর্মচারীদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা।

  • মজুরি বোর্ড: দোকান কর্মচারীদের জন্য পৃথক ও বৈষম্যহীন মজুরি বোর্ড গঠন।

    Manual5 Ad Code

  • নিয়োগপত্র: সকল কর্মচারীকে স্বাক্ষরযুক্ত নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান।

    Manual2 Ad Code

সংহতি ও আগামী কর্মসূচি

জাতীয় দোকান কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, “দোকান কর্মচারীরা দেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমশক্তি। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আমাদের সোচ্চার হতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এবং বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা। তারা অবিলম্বে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

Manual2 Ad Code