১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে মহাজাগতিক ‘লেজার’ শনাক্ত: মহাবিশ্বের রহস্যে নতুন দিগন্ত

admin
প্রকাশিত ১৩ মার্চ, শুক্রবার, ২০২৬ ১৯:২৯:৩৮
৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে মহাজাগতিক ‘লেজার’ শনাক্ত: মহাবিশ্বের রহস্যে নতুন দিগন্ত

Manual2 Ad Code

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক | ১৩ মার্চ, ২০২৬

মহাবিশ্বের গভীর থেকে আসা এক শক্তিশালী এবং বিরল ‘মহাকাশ লেজার’ শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই সংকেতটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে দূরবর্তী এবং শক্তিশালী লেজার সদৃশ মহাজাগতিক বিকিরণগুলোর একটি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত শক্তিশালী মিরাক্যাট (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই অদ্ভুত সংকেতটি শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই শক্তিশালী বিকিরণকে ‘গিগামেজার’ (Gigamaser) নামে অভিহিত করেছেন।

যেভাবে সৃষ্টি হয় এই ‘মহাকাশ লেজার’

গবেষকদের মতে, HATLAS J142935.3–002836 নামক এই মহাজাগতিক বস্তুটি দুটি বিশাল ছায়াপথের (Galaxy) প্রচণ্ড সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।

Manual3 Ad Code

  • প্রক্রিয়া: দুটি ছায়াপথ যখন সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেখানে থাকা বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রচণ্ড চাপে সংকুচিত হয়।

  • বিকিরণ: এই চাপে হাইড্রোক্সিল অণুগুলো উত্তেজিত হয়ে শক্তিশালী মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ নিঃসরণ করে, যা অনেকটা কৃত্রিম লেজারের মতোই আচরণ করে।

    Manual8 Ad Code

দৃষ্টির সীমানা ছাড়িয়ে: গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং

এত দূরের সংকেত স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ‘গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং’ নামক এক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কারণে। এই প্রক্রিয়ায় সামনের কোনো ছায়াপথের মহাকর্ষ বল পেছনের বস্তু থেকে আসা আলোকে লেন্সের মতো বাঁকিয়ে ও বড় করে দেখায়, যা অনেকটা আতশ কাঁচের মতো কাজ করে।

বিজ্ঞানীদের বক্তব্য

গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক থাতো মানামেলা বলেন:

Manual3 Ad Code

“এই আবিষ্কারটি অত্যন্ত বিস্ময়কর। এটি যেন মহাবিশ্বের ঠিক মাঝামাঝি দূরত্বে থাকা একটি বিশালাকার রেডিও লেজার দেখার মতো ঘটনা।”

Manual5 Ad Code

রেকর্ড ভাঙা আবিষ্কার

বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই সংকেতের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় নিয়েছে প্রায় ৭৮০ কোটি বছর। এর আগে এই ধরনের ঘটনার সর্বোচ্চ দূরত্বের রেকর্ড ছিল প্রায় ৫০০ কোটি আলোকবর্ষ। অর্থাৎ, এই আবিষ্কারটি মহাবিশ্বের অনেক গভীর অতীত সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিচ্ছে।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার দূরবর্তী ছায়াপথের সংঘর্ষ এবং মহাবিশ্বের বিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণা আরও সমৃদ্ধ করবে।