২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহা খন্দকার গ্রেপ্তার

admin
প্রকাশিত ০৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার, ২০২৫ ২২:৩৭:২০
সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহা খন্দকার গ্রেপ্তার

Manual3 Ad Code

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহা খন্দকার গ্রেপ্তার

ঢাকার নবাবগঞ্জে সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শামসুদ্দোহা খন্দকারকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গৃহকর্মীদের বকেয়া বেতন নিয়ে বিরোধের জেরে মদ্যপ অবস্থায় গুলি করার হুমকি এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের টানা ১২ ঘণ্টার অপেক্ষার পর রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে তাঁকে আটক করা হয়।

Manual1 Ad Code

পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বাসার চার নারী গৃহকর্মী বেতন চাইলে শামসুদ্দোহা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে তাঁদের হত্যার হুমকি দেন। আতঙ্কিত এক গৃহকর্মী রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। কিন্তু শামসুদ্দোহা দরজা আটকে ভেতরে অবস্থান নিতে থাকেন। রাতভর পুলিশ বাড়ির সামনে অপেক্ষা করে। অবশেষে সকালে তিনি ঘুম থেকে ওঠার পর পুলিশের অনুরোধে বাইরে এসে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তাঁর পিস্তলটি জব্দ করা হয়।

Manual6 Ad Code

পরে তাঁকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুপুর সোয়া ১টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির ঘটনায় দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেসব মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শামসুদ্দোহা ১৯৮৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১১ সালে অতিরিক্ত আইজিপি পদে উন্নীত হন এবং পরে প্রেষণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। দায়িত্বকালে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। ২০১৫ সালে চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ২০১৬ সালের ৩ মার্চ তিনি অবসরে যান।

Manual4 Ad Code

২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শামসুদ্দোহা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। দুদকের অনুসন্ধানে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪১ কোটি টাকার অবৈধ আয় এবং শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ মেলে। এ ছাড়া ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে দুদকের মামলা বর্তমানে বিচারাধীন।

Manual5 Ad Code

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, চেক জালিয়াতির দুটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে, যেগুলোতে তিনি জামিনে আছেন।