
বাগবাড়িতে বৃদ্ধা ও শিশুদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট নগরীর বাগবাড়ি এলাকার এতিম স্কুল রোডে এক বৃদ্ধা নারীকে মারধর, বসতঘরে হামলা, শিশুদের ওপর নির্যাতন, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাপিয়া বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।অভিযোগকারী মো. হানিফ জানান, তার শাশুড়ি মোছা. মিনারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বাগবাড়ির এতিম স্কুল রোড এলাকায় বসবাস করে আসছেন। প্রতিবেশী পাপিয়া বেগম ও তার পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও বিরোধের অবসান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুন সন্ধ্যায় হানিফের ছেলে শাওয়ান আহমদ ও ভাগিনা ইমরান বাইরে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করে। এতে তারা রাজি না হলে তাদের গালিগালাজ করা হয়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই পাপিয়া বেগমসহ কয়েকজন অভিযুক্ত সংঘবদ্ধভাবে মিনারা বেগমের বসতঘরে ঢুকে তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে পাপিয়া বেগম বৃদ্ধা মিনারা বেগমের চুলের মুঠি ধরে মারধর করে ধাক্কা দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শাওয়ান আহমদ ও ইমরানকেও মারধর করা হয়, যার ফলে তারাও আহত হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে মিনারা বেগমের সাথে থাকা নগদ ৩ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসা ও আহতদের পরিচর্যার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারী।
এ ঘটনায় পাপিয়া বেগম, রিফাতসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে জানতে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছিলাম। তখন মনির মুন্সিসহ স্থানীয় এলাকার পঞ্চায়েতের কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা এলাকাবাসীকে নিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করে দেবেন। এরপরও যদি বাদী পক্ষ সন্তুষ্ট না হন, তাহলে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাখিল করব।”