এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, সিলেট | ১ এপ্রিল, ২০২৬
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের বর্তমান জীর্ণ দশা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি অভিযোগ করেছেন, অতীতে উন্নয়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে এই ক্রীড়া স্থাপনাটিকে।
আজ বুধবার দুপুরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
৩০ এপ্রিল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে সরাসরি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির দেশব্যাপী উদ্বোধন করবেন। সিলেটের মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি চালু করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান:
খেলোয়াড়দের ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান
খেলোয়াড়দের কল্যাণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, “গত ৩০ মার্চ থেকে প্রতিটি খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান শুরু হয়েছে। আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে অবশিষ্ট খেলোয়াড়দেরও এই ভাতার আওতায় আনা হবে।”
শিক্ষা ব্যবস্থায় খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শক্তিশালী করতে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে।
স্টেডিয়াম সংস্কারের নির্দেশ
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতে সংস্কার ও উন্নয়নের নামে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার সঠিক প্রতিফলন এখানে দেখা যাচ্ছে না। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন: স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।