যুদ্ধ ও দমন-পীড়নের দ্বিমুখী চাপে ইরান: আরও এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
যুদ্ধ ও দমন-পীড়নের দ্বিমুখী চাপে ইরান: আরও এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
admin
প্রকাশিত ০৩ এপ্রিল, শুক্রবার, ২০২৬ ১৯:২৩:৩১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান
অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে ইরান সরকার। গত জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে এবার আমিরহোসেন হাতামি নামে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি। ইরানের বিচার বিভাগের দাবি, হাতামি তেহরানের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ড ও গ্রেপ্তারের মিছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জন রাজনৈতিক বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে আরও বেশ কয়েকজন কারাবন্দী মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নতুন করে বিক্ষোভ দানা বাঁধা ঠেকাতেই ইরান এই কঠোর ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতিদিন দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধরপাকড়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আটককৃতদের অনেকের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও বিরোধী মিডিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নজিরবিহীন প্রাণহানি ও দমন-পীড়ন জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার যে নজিরবিহীন বলপ্রয়োগ করেছে, তার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির পরিসংখ্যানে। সংস্থাটির দাবি, ওই বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার ৫০৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষকে। যদিও সরকারি ভাষ্যমতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার। মূলত এই ব্যাপক ধরপাকড় এবং বর্তমান যুদ্ধাবস্থার কারণেই রাজপথে এখন বড় কোনো জমায়েত দেখা যাচ্ছে না।
আতঙ্কে কাটছে তেহরানের রাত রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা এক অদ্ভুত আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। যুদ্ধের বিস্ফোরণের শব্দের পাশাপাশি রাতে রাস্তায় রাস্তায় ইসলামিক রিপাবলিকের পতাকা ও লাউডস্পিকার নিয়ে বিশেষ দলের টহল নাগরিকদের মনে সার্বক্ষণিক নজরদারির ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
বিক্ষোভ ঠেকাতে ইরান সরকারের অন্যান্য কৌশলের মধ্যে রয়েছে:
চত্বর দখলের রাজনীতি গত জানুয়ারিতে যেসব চত্বর সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখর ছিল, এখন সেই জায়গাগুলো সরকারপন্থীদের দখলে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রতিদিন রাতে বড় বড় শহরগুলোর প্রধান চত্বরগুলোতে সরকারপন্থী সমাবেশের খবর প্রচার করা হচ্ছে, যাতে জনমনে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে পরিস্থিতি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর সামরিক নজরদারির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা নতুন কোনো সংগঠিত আন্দোলন গড়ার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।