৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে টিআইবি-র গভীর ক্ষোভ

admin
প্রকাশিত ০৩ এপ্রিল, শুক্রবার, ২০২৬ ১৯:২৮:৫৫
সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে টিআইবি-র গভীর ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় বিষয়ক দুটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ স্থগিতের সুপারিশে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এই তিনটি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের দাবি জানিয়েছে।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে একটি ‘উল্টো যাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, পৃথক সচিবালয় এবং মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার থাকলেও, এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সুপারিশ সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, “বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার বদলে সরকার এখন উল্টো পথে হাঁটছে।”

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে শঙ্কা

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ স্থগিতের ফলে একটি কার্যকর কমিশন গঠনের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশও ‘অধিকতর যাচাই-বাছাই’-এর সুপারিশে পাঠানোয় প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, যাচাই-বাছাইয়ের নামে গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা বা তদন্ত দুর্বল করার উদ্যোগ হবে আত্মঘাতী।

অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

টিআইবি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ কমিশন এবং তথ্য অধিকার বিষয়ক স্থগিত হওয়া অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়:

  • দুদক অধ্যাদেশ: সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে সংশোধন করে দ্রুত সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করতে হবে।

  • পুলিশ কমিশন: একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি।

  • তথ্য অধিকার: এই অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা ও মানবাধিকার কমিশনের শক্তিশালী ভূমিকা না থাকলে মানুষের জীবন কতটা দুর্বিষহ হতে পারে, তা বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অজানা নয়। তাই স্থগিত হওয়া সব অধ্যাদেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত আইনে রূপান্তর করা জরুরি।